| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

চুক্তিহীন জেনেভা বৈঠক শেষ , যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২৬ ইং | ১২:২০:৪৩:অপরাহ্ন  |  ৪৩৬৩৮১ বার পঠিত
চুক্তিহীন জেনেভা বৈঠক শেষ , যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও কোনো চুক্তি হয়নি। মধ্যস্থতাকারী ওমান বলেছে, আলোচনা ইতিবাচক ছিল এবং শিগগিরই আবার বৈঠক হবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক সমাবেশের কারণে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা এখনো কাটেনি।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যিদ বদর আলবুসাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, দুই দেশ নিজ নিজ রাজধানীতে পরামর্শ শেষে দ্রুত আলোচনা পুনরায় শুরু করবে। আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের মধ্যে সম্ভাব্য কোনো সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর হুমকি দেওয়া সামরিক পদক্ষেপ এড়াতে সহায়ক হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে বৃহস্পতিবারের আলোচনা চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ায় আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

জেনেভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি-এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের দুটি দফায় বৈঠক হয়। আলবুসাইদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে তিনি কোনো বিস্তারিত দেননি এবং বড় অচলাবস্থা কেটে গেছে,এমন ঘোষণা থেকেও বিরত থাকেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে আরাকচি বলেন, কিছু বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছি, আবার কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। তিনি জানান, এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনা হবে। ইরান স্পষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে, যদিও ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে—তেহরান বড় ধরনের ছাড় না দিলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হবে না।

মার্কিন আলোচক দলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অ্যাক্সিওসের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা আলোচনা “ইতিবাচক” বলে মন্তব্য করেছেন।

ওয়াশিংটন মনে করে, তেহরান পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে চায়। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করুক। যদিও ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ইচ্ছা অস্বীকার করে এসেছে এবং জানিয়েছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদনের জন্য।

এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, পারমাণবিক ও অ-পরমাণবিক ইস্যুগুলো আলাদা করলে কাঠামোগত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনকেও আলোচনার অংশ করতে চায়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুধবার বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা না করা “বড় সমস্যা” এবং এটি শেষ পর্যন্ত সমাধান করতেই হবে। তিনি দাবি করেন, এসব ক্ষেপণাস্ত্র আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি; তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, এ দাবির পক্ষে তিনি প্রমাণ দেননি।

ফেব্রুয়ারির ১৯ তারিখ ট্রাম্প বলেন, ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে ইরানকে চুক্তিতে আসতে হবে; নইলে “খুব খারাপ কিছু” ঘটবে। মঙ্গলবার তার স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণেও তিনি বলেন, কূটনৈতিক সমাধানই তার পছন্দ, কিন্তু ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না।

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর থেকে ওয়াশিংটন আবারও তেহরানের ওপর চাপ বাড়িয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিমান ও বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে। ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল এবং নতুন করে হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি তার ৩৬ বছরের শাসনামলে সবচেয়ে কঠিন সংকটের মুখে রয়েছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও সাম্প্রতিক দমন-পীড়নের পর অর্থনীতি চাপে রয়েছে এবং নতুন করে বিক্ষোভের ঝুঁকিও দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, খামেনি গণবিধ্বংসী অস্ত্র নিষিদ্ধ করেছেন, যা স্পষ্টভাবে বোঝায় তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তিনি জানান, ২০০০-এর দশকের শুরুতে জারি করা ধর্মীয় ফতোয়াও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। -রয়টার্স

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪