আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বাহিনীর মধ্যে টানা তৃতীয় দিনের মতো সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জরুরি সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে।
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার পাকিস্তানের বাহিনী কাবুল ও কান্দাহারসহ একাধিক স্থানে তালেবান সামরিক স্থাপনা ও চৌকিতে হামলা চালায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিবেশী আফগানিস্তানের ভেতরে এটি পাকিস্তানের অন্যতম গভীর অভিযান।
ইসলামাবাদ অভিযোগ করে আসছে, আফগান তালেবান সরকার তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানের ভেতরে সশস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। তবে তালেবান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
পাকিস্তান বলেছে, তারা সীমান্তপারের হামলার জবাব দিচ্ছে। অন্যদিকে কাবুল একে তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করে জানিয়েছে, তারা সংলাপে প্রস্তুত থাকলেও সংঘাত বিস্তৃত হলে তার ‘গুরুতর পরিণতি’ হবে।
দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের শঙ্কা
প্রায় ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ দুর্গম সীমান্তজুড়ে এই লড়াই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুক্রবার রাত থেকেই কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়তে থাকে। আফগানিস্তান জানায়, তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং উত্তেজনা কমানো ও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয় পক্ষকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘ অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধের দাবি তুলেছে। রাশিয়া আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে এবং চীন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উত্তেজনা প্রশমনে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তালেবান হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার পাকিস্তানের রয়েছে।
হতাহতের ভিন্ন দাবি
পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ‘গাজাব লিল হক’ নামের একটি অভিযান চলমান রয়েছে এবং এতে বহু তালেবান চৌকি ও ক্যাম্প ধ্বংস করা হয়েছে। তবে রয়টার্স এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
দুই পক্ষই ব্যাপক হতাহতের দাবি করেছে। পাকিস্তান জানায়, তাদের ১২ সেনা নিহত এবং ২৭৪ তালেবান যোদ্ধা মারা গেছে। অন্যদিকে তালেবান দাবি করেছে, তাদের ১৩ যোদ্ধা এবং ১১০ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে।
তালেবানের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত বলেন, খোস্ত ও পাকতিকা প্রদেশে ৫২ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৬৬ জন আহত হয়েছেন। এ সংখ্যাও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেন, ইসলামাবাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি ‘খোলা যুদ্ধ’-এ রূপ নিয়েছে।
তালেবানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানি এক বক্তব্যে বলেন, এই সংঘাত অত্যন্ত ব্যয়বহুল হবে। তিনি দাবি করেন, তালেবান ঐক্য ও ধৈর্যের মাধ্যমে পূর্বেও বড় শক্তিকে পরাজিত করেছে।
সামরিক সক্ষমতায় পার্থক্য
সামরিক সক্ষমতায় পাকিস্তান আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক এগিয়ে। দেশটির কয়েক লাখ সদস্যের স্থায়ী সেনাবাহিনী ও আধুনিক বিমানবাহিনী রয়েছে। বিপরীতে তালেবানের কোনো প্রচলিত বিমানবাহিনী নেই; তারা মূলত হালকা অস্ত্র ও স্থলবাহিনীর ওপর নির্ভরশীল।
তবে ২০২১ সালে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার আগে দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা তালেবানকে যুদ্ধকৌশলে দৃঢ় করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/এসসি