আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠার পর ইরান দাবি করেছে, তাদের সামরিক প্রতিশোধী অভিযান থেকে অন্তত ২০১ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই সংখ্যা প্রকাশ করেছে এবং জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও বিমানঘাঁটিতে হামলার মাধ্যমে তারা, প্রত্যেকটি হামলার প্রতিশোধ নিয়েছে।
ইরানের কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, এ অভিযান মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ও প্রতিশোধমূলক হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনও এই হতাহতের সংখ্যা স্বীকার করা হয়নি। পেন্টাগন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা এ ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে এবং পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তবে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, ইরানের আঘাত বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতি করেছে, কিন্তু মৃত্যুর সংখ্যা ও প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার নতুন অধ্যায় খুলেছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর সামরিক প্রস্তুতি, এবং আঞ্চলিক শক্তির মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই ধরণের হামলা শুধুমাত্র সামরিক ক্ষেত্রে নয়, তেলের সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
ইরান-পাকিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি এলাকা থেকে রিপোর্ট করা হয়েছে, হামলার পর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং মার্কিন ও স্থানীয় কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিগুলোর তত্ত্বাবধান করছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, বিশেষ করে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো, এবং তারা উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার আহ্বান জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে এই উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যেই ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, এবং নৌপথে চলাচল সীমিত হওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে, আঞ্চলিক সংঘাত আন্তর্জাতিক স্তরে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি