রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
ইরানের সরকারি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজের বরাতে জানা গেছে, রোববার (০১ মার্চ) বাংলাদেশ সময় সকালে তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করার পর আইআরজিসি এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছি এবং আমরা তার জন্য শোকাহত। মানবতার সবচেয়ে নিষ্ঠুর সন্ত্রাসী ও জল্লাদদের হাতে আমাদের মহান নেতার শাহাদাৎ প্রমাণ করে যে তার ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্ব ও দেশপ্রেম তাদের জন্য আতঙ্কের কারণ ছিল।
এতে আরও বলা হয়, যাদের হাতে আমাদের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন, তাদের এই জাতি ছাড়বে না। ইরান প্রতিশোধ নেবে এবং আইআরজিসি দেশি-বিদেশি যেকোনো ষড়যন্ত্র নির্মূলে বদ্ধপরিকর।
যৌথ অভিযানের দাবি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল- এমন দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু খামেনি নিহত হওয়ার কথা জানান। একই তথ্য নিশ্চিত করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার সকালে ইরান সরকারিভাবে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রভাব
৮৬ বছর বয়সী খামেনি ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ। সামরিক, বিচার ও গোয়েন্দা কাঠামোসহ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রায় সব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব ছিল সর্বব্যাপী।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে তৎকালীন শাহ মুহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি ক্ষমতাচ্যুত হন। বিপ্লবে নেতৃত্ব দেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি, যিনি পরবর্তীতে ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হন।
১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
সূত্র: আল-জাজিরা।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে