আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক হামলার সিদ্ধান্তের পেছনে ইসরায়েল ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের চাপ বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ইরানের বিরুদ্ধে যে বৃহৎ আকাশ হামলা চালান, তার আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েল ও সৌদি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জোরালো লবিং চলছিল। হামলার প্রথম ঘণ্টাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদির নেপথ্য তৎপরতা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি যুবরাজ মোহম্মদ বিন সালমান গত এক মাসে একাধিকবার ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে ফোন করে ইরানে হামলার পক্ষে মত দেন। যদিও প্রকাশ্যে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং সৌদি আকাশসীমা হামলায় ব্যবহার না করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমানও জানুয়ারিতে ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ইরানে হামলা না করলে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ইরানি প্রতিশোধের আশঙ্কা,এই দুই বিবেচনার মধ্যে ভারসাম্য রাখতে গিয়েই সৌদি অবস্থান জটিল হয়ে উঠেছিল।
ইসরায়েলের প্রকাশ্য চাপ
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রকাশ্যে আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ছাড়াই হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এ তথ্যও মার্কিন আইনপ্রণেতাদের জানানো হয়।
গোয়েন্দা মূল্যায়ন বনাম সিদ্ধান্ত
প্রতিবেদন বলছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে ইরান আগামী এক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি নয় বলে ধারণা ছিল। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলার পর ইরান নতুন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করেছে—এমন প্রমাণ নেই।
তবুও ট্রাম্প হামলাকে “তাৎক্ষণিক হুমকি প্রতিহত” করার পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন এবং ইরানিদের সরকার ‘দখল’ করার আহ্বান জানান।
কংগ্রেসে প্রশ্ন
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা হামলার আইনি ভিত্তি ও ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’র প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট মার্ক ওয়ার্নার বলেন, “আমেরিকার বিরুদ্ধে ঠিক কী হুমকি ছিল—আমি জানি না।”
সামনে কী?
ট্রাম্প জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে “শান্তি প্রতিষ্ঠা” না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত থাকবে। তবে সামরিক শক্তি দিয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন আনা সম্ভব কি না—তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র আকাশ হামলা দিয়ে একটি দেশের শাসনব্যবস্থা বদলে দেওয়ার প্রচেষ্টা ইতিহাসে খুব কম ক্ষেত্রেই সফল হয়েছে। ফলে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি