| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

খামেনির মৃত্যুর পরও ইরানে নতুন হামলা

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ০১, ২০২৬ ইং | ১৩:২৬:২২:অপরাহ্ন  |  ৪৩২৬৯৮ বার পঠিত
খামেনির মৃত্যুর পরও  ইরানে নতুন হামলা
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর দেশটিতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এদিকে, সম্ভাব্য পাল্টা আঘাতের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রবিবার ১ মার্চ ইসরায়েল জানায়, তারা ইরানে আরেক দফা সামরিক হামলা শুরু করেছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জানিয়েছিল, যৌথ বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সী খামেনি নিহত হয়েছেন। পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে।

এ হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান অব স্টাফ আব্দোলরাহিম মুসাভিও নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরান টিভি। এতে দেশটির নেতৃত্বে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে বলেন, ইরান যদি প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এমন শক্তি প্রয়োগ করবে যা আগে কখনও দেখা যায়নি। তিনি লেখেন, ইরান বলেছে তারা আজ খুব কঠোরভাবে আঘাত হানবে। তারা যেন তা না করে। কারণ যদি করে, আমরা নজিরবিহীন শক্তি দিয়ে জবাব দেব।

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লরিজান জানান, দেশে একটি অস্থায়ী নেতৃত্ব কাউন্সিল গঠন করা হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানকে দুর্বল ও বিভক্ত করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু’র ঘনিষ্ঠ মিত্র ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেন, তারা ‘লাল রেখা’ অতিক্রম করেছে এবং এর মূল্য দিতে হবে।

রয়টার্সকে এক সূত্র জানায়, খামেনির মৃত্যুর পরও ইসরায়েলের সামরিক কৌশলে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা ও ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত থাকবে।

দুবাই ও দোহায় বিস্ফোরণ, ইসরায়েলে সাইরেন

রবিবার দ্বিতীয় দিনের মতো আঞ্চলিক বাণিজ্যকেন্দ্র দুবাই ও কাতারের রাজধানী দোহায় একাধিক জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ইরান উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালানোর পর এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

দুবাইয়ের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার সাদা ধোঁয়া দেখা যায়। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ব্যস্ত বন্দর জেবেল আলির ওপর কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে।

ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। তেল আবিবে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যখন ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের সর্বশেষ হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্প দাবি করেন, এই হামলার লক্ষ্য ইরানের দীর্ঘদিনের হুমকি দূর করা এবং দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখা। যদিও বিদেশে সামরিক জড়িত থাকার বিরোধিতার ঘোষণার সঙ্গে তার এ পদক্ষেপ সাংঘর্ষিক বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

তেহরানে বিক্ষোভ, অস্থিরতা বাড়ছে

রাজধানী তেহরানের ইঙ্গেলাব স্কয়ারে খামেনির মৃত্যুর পর লোকজন জড়ো হয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খামেনি ও অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু ইরানের জন্য বড় ধাক্কা হলেও, এতে দেশটির প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার অবসান হবে এমনটি নিশ্চিত নয়। প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সূত্র জানায়, খামেনি ও তার শীর্ষ সহযোগীদের বৈঠকের সময় লক্ষ্য করেই হামলার সময় নির্ধারণ করা হয়। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, শনিবারের হামলার সময় খামেনি নিজ কার্যালয়ে ছিলেন। ওই হামলায় তার মেয়ে, নাতি-নাতনি ও পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য নিহত হন।

ইরান প্রাথমিক হামলার জবাবে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাঘাঁটি এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত আরব দেশগুলোর শহর লক্ষ্য করে আঘাত হানে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ফ্লাইট বাতিলের হিড়িক পড়ে। পেন্টাগন জানায়, এতে কোনো মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়নি।

হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারি

শনিবার তেহরান ঘোষণা দেয়, তারা বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহের পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম তীব্রভাবে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি বড় বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দুবাইয়ের প্রতীকী হোটেল বুর্জ আল আরব এবং বিমানবন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলোর বৈঠক রোববার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে জুনে ১২ দিনের বিমানযুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল। তখনই তেহরান পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অব্যাহত রাখলে পুনরায় হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল।রয়টার্স 

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪