আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির ক্ষমতার ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। ইসরায়েলি ও মার্কিন যৌথ অভিযানের পর পশ্চিম এশিয়ায় প্রশ্ন উঠেছে ইরানে কি বড় রাজনৈতিক পালাবদল আসন্ন? বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার ভারসাম্য বুঝতে হলে তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে নজর দিতে হবে।
সম্ভাব্য প্রভাবশালী ১০ নেতা
মাসুদ পেজেশকিয়ান: ইরানের প্রেসিডেন্ট। আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অভ্যন্তরীণ প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ: পার্লামেন্ট ‘মজলিস’-এর স্পিকার; নিরাপত্তা ও সামরিক মহলে প্রভাবশালী।
আলী লারিজানি: সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সঙ্গে যুক্ত; কূটনৈতিক মহলে প্রভাব রয়েছে।
মোজতবা খামেনি: খামেনেইয়ের পুত্র; পর্দার আড়ালে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।
আব্বাস আরাগছি: বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী; আন্তর্জাতিক আলোচনায় মুখ্য প্রতিনিধি।
সাদেক লারিজানি: এক্সপিডিয়েন্সি কাউন্সিলের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রভাবশালী নেতা।
মোহাম্মদ পাকপুর: ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডারদের একজন।
আলী শামখানি: দীর্ঘদিন নিরাপত্তা ও কৌশলগত উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আমির নাসিরজাদেহ : প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে সামরিক নীতিনির্ধারণে যুক্ত।
রেজা পাহলভি: নির্বাসিত যুবরাজ; বিদেশে অবস্থান করলেও রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবে আলোচনায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ক্ষমতার মূল ভরকেন্দ্র তিনটি স্তম্ভে দাঁড়িয়ে—প্রেসিডেন্টের কার্যালয়, পার্লামেন্ট এবং ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বিশেষত আইআরজিসির শীর্ষ কমান্ডাররা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত সিদ্ধান্তে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্বের জন্য একটি কাউন্সিল গঠনের কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো বহুস্তরবিশিষ্ট এবং তাৎক্ষণিক পতনের সম্ভাবনা কম।
ঘটনার পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের পদক্ষেপ এবং তেহরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করতে পারে। সূত্র: আনন্দবাজার
রিপোর্টার্স২৪/এসসি