| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যুক্তরাষ্ট্র পরীক্ষা শুরু করলে রাশিয়া পাল্টা পদক্ষেপ নেবে:পুতিনের হুঁশিয়ারি

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ০৪, ২০২৬ ইং | ১৬:০০:৫৯:অপরাহ্ন  |  ৪১০৯৪৯ বার পঠিত
যুক্তরাষ্ট্র পরীক্ষা শুরু করলে রাশিয়া পাল্টা পদক্ষেপ নেবে:পুতিনের হুঁশিয়ারি
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা শুরু করলে রাশিয়াও ‘সমানুপাতিক পদক্ষেপ’ নেবে,এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সম্ভাব্য পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরুর বিষয়ে প্রস্তাব প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন।

বুধবার ক্রেমলিনে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে পুতিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা বিস্তৃত পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধ চুক্তি ব্যাপক পারমাণবিক পরীক্ষা-নিষেধ চুক্তি (সিটিবিটি) স্বাক্ষরকারী কোনো দেশ যদি পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়, তবে রাশিয়া পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। বৈঠকের প্রতিলিপি ক্রেমলিন প্রকাশ করেছে।

পুতিন পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট বেসামরিক দপ্তরগুলোকে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ, তা নিরাপত্তা পরিষদে বিশ্লেষণ এবং সম্ভাব্য ‘প্রথম পদক্ষেপ’ নিয়ে সমন্বিত প্রস্তাব জমা দিতে নির্দেশ দেন।

রাশিয়া সর্বশেষ ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা বন্ধ করে। তবে সম্প্রতি ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটন-মস্কো উত্তেজনা বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৩০ অক্টোবর প্রতিরক্ষা দপ্তরকে “অবিলম্বে” পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা পুনরায় শুরুর নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান। তিনি রাশিয়ার নতুন পারমাণবিক শক্তিচালিত ‘বুরেভেস্তনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়েও সমালোচনা করেন।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলউসোভ বৈঠকে বলেন, ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ রাশিয়ার জন্য সামরিক হুমকির মাত্রা বাড়িয়েছে। তিনি দাবি করেন, রাশিয়ার পারমাণবিক বাহিনীকে এমন প্রস্তুতিতে রাখতে হবে, যাতে “অগ্রহণযোগ্য ক্ষতি” করার সক্ষমতা বজায় থাকে। একই সঙ্গে তিনি জানান, আর্কটিক অঞ্চলের নোভায়া জেমলিয়া পরীক্ষাকেন্দ্রে স্বল্প নোটিশে পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব।

রুশ সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ প্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভও সতর্ক করে বলেন, এখন যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের জবাব দেওয়ার সময় ও সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে। তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, প্রস্তাব জমা দেওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

বিশ্বে সবচেয়ে বড় দুই পারমাণবিক শক্তি হলো রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টার ফর আর্মস কন্ট্রোল অ্যান্ড নন-প্রলিফারেশন (CACNP)-এর হিসাবে, রাশিয়ার হাতে প্রায় ৫,৪৫৯টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে, যার মধ্যে ১,৬০০টি সক্রিয়ভাবে মোতায়েন। যুক্তরাষ্ট্রের মজুত প্রায় ৫,৫৫০টি, যার মধ্যে প্রায় ৩,৮০০ সক্রিয়।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, চীন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত অস্ত্রভাণ্ডার বাড়ালেও তাদের ওয়ারহেডের সংখ্যা প্রায় ৬০০। এছাড়া ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, ইসরায়েল ও উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ ১৯৯২ সালে পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটায়। ১৯৯৬ সালে সিটিবিটি স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকে কেবল ভারত ও পাকিস্তান ১৯৯৮ সালে এবং উত্তর কোরিয়া ২০০৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে একাধিকবার পরীক্ষা চালিয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের কোনো পারমাণবিক শক্তি পুনরায় বিস্ফোরণভিত্তিক পরীক্ষা শুরু করলে তা নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার সূচনা করতে পারে এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করবে। জাতিসংঘ নিরস্ত্রীকরণ গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষক আন্দ্রেই বাকলিতস্কি এটিকে “অ্যাকশন-রিঅ্যাকশন চক্র” হিসেবে বর্ণনা করে সতর্ক করেছেন এভাবে নতুন পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে। আলজাজিরা

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪