| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ভূমধ্যসাগরে পরমাণু রণতরী ‘চার্লস দ্য গল’ পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ০৪, ২০২৬ ইং | ১৬:১৮:১৪:অপরাহ্ন  |  ৪১০৯০১ বার পঠিত
ভূমধ্যসাগরে পরমাণু রণতরী ‘চার্লস দ্য গল’ পাঠাচ্ছে ফ্রান্স
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে মিত্র দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় ফ্রান্সের পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। তিনি বাল্টিক সাগর থেকে রণতরীটিকে ভূমধ্যসাগরে পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।

মঙ্গলবার টেলিভিশনে প্রচারিত পূর্বধারণকৃত ভাষণে ম্যাক্রোঁ জানান, ফরাসি বিমানবাহী রণতরী ‘চার্লস দ্য গল’কে ফ্রিগেট ও যুদ্ধবিমানসহ একটি পূর্ণাঙ্গ নৌবহর ঘিরে রাখবে। একই সঙ্গে রাফাল যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আকাশভিত্তিক রাডার মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। যতদিন প্রয়োজন, আমরা এই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব, বলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।

ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি আগেই জানিয়েছিল, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় তারা সরাসরি জড়িত নয়। তবে প্রয়োজন হলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা মোকাবিলায় প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে। ম্যাক্রোঁ দাবি করেন, সংঘাতের শুরুর দিকেই “বৈধ আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে” ফরাসি বাহিনী মিত্র দেশের আকাশসীমা রক্ষায় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি সাইপ্রাসে অবস্থিত একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতে সোমবারের হামলার কথা উল্লেখ করেন। সাইপ্রাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য এবং সম্প্রতি ফ্রান্সের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি করেছে বলে জানান তিনি। এছাড়া কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে এবং জর্ডান ও ইরাকের প্রতিও তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার আছে বলে উল্লেখ করেন ম্যাক্রোঁ।

লেবানন পর্যন্ত সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ “গুরুতর ভুল” করেছে ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে, যা লেবাননের জনগণকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। তবে তিনি ইসরায়েলকে লেবাননে স্থল অভিযান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। এটিও বিপজ্জনক মাত্রায় উত্তেজনা বাড়াবে এবং কৌশলগত ভুল হবে, বলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নে ম্যাক্রোঁ বলেন, ফ্রান্স নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করে এবং আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর বাইরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরান হামলাকে সমর্থন করতে পারে না। যত দ্রুত সম্ভব হামলা বন্ধ করে কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে তিনি ইরানের ভূমিকাকেও সংঘাতের জন্য দায়ী করেন। ম্যাক্রোঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান বিপজ্জনক পারমাণবিক কর্মসূচি ও নজিরবিহীন ব্যালিস্টিক সক্ষমতা গড়ে তুলেছে এবং লেবাননে হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনে হুথি ও ইরাকে শিয়া মিলিশিয়াদের সমর্থন দিয়েছে। পাশাপাশি হামাসকে সহায়তা করে ইসরায়েল রাষ্ট্র ধ্বংসের লক্ষ্য ঘোষণা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিহত হওয়ার প্রসঙ্গে ম্যাক্রোঁ বলেন, ইতিহাস নিজ জনগণের ‘নিপীড়কদের’ জন্য শোক প্রকাশ করে না। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরানের জনগণ যেন নিজের ভবিষ্যৎ স্বাধীনভাবে নির্ধারণ করতে পারে। সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪