স্টাফ রিপোর্টার: ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন শপিং মার্কেটে জমে উঠেছে কেনাকাটা। ছুটির দিন হওয়ায় শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল থেকেই নিউ মার্কেট, গাউছিয়া, মৌচাক ও আনারকলি মার্কেটসহ আশপাশের শপিংমলগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ঈদের পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মার্কেটে ছুটছেন মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, নিউ মার্কেট এলাকায় সকাল থেকেই ক্রেতাদের ঢল নামে। নিউ মার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট ও ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের ভেতরে তিল ধারণের জায়গা নেই এমন অবস্থা তৈরি হয়। দোকানগুলোতে নতুন ডিজাইনের পোশাক সাজিয়ে রাখা হয়েছে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যস্ততা চোখে পড়েছে সর্বত্র।
ক্রেতাদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের সড়কগুলোতেও তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট। সাইন্সল্যাব মোড় থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে দীর্ঘ যানবাহনের সারি দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে এই পথ পাড়ি দিতে ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। বিকেলের দিকে যানজট ছড়িয়ে পড়ে সাইন্সল্যাব, নীলক্ষেত ও ধানমন্ডি এলাকার বিভিন্ন সড়কে।
নিউ মার্কেটমুখী এক রিকশাচালক সোহেল বলেন, আগে সাইন্সল্যাব থেকে নিউ মার্কেট যেতে ২০ থেকে ২৫ মিনিট লাগত। এখন প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগছে। গাড়ির চাপ এত বেশি যে রিকশা চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ক্রেতাদের ভিড়ের কারণে অনেক যাত্রী যানজট এড়াতে বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যাওয়ার পথ বেছে নিতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের মতে, ক্রেতা ও যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের পাশাপাশি ফুটপাতে দোকান বসার কারণে সড়ক সংকুচিত হয়ে যানজট আরও বাড়ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের এখনও কয়েক দিন বাকি থাকলেও বিক্রি ভালো শুরু হয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের পোশাকের চাহিদা বেশি। নিউ মার্কেটের এক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রিয়াদ বলেন, সাধারণত ঈদের কেনাকাটা শেষের দিকে বাড়ে। তবে এবার শুরু থেকেই ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, ছেলেদের পোশাকের মধ্যে পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট ও জিন্স প্যান্টের চাহিদা বেশি। পাঞ্জাবি ১০০০ থেকে ৩০০০ টাকা, কাবলি পাঞ্জাবি ১৩০০ থেকে ৩৫০০ টাকা, টি-শার্ট ২০০ থেকে ৪০০ টাকা, পোলো টি-শার্ট ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা এবং জিন্স বা গ্যাবার্ডিন প্যান্ট ৫০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নারীদের পোশাকের মধ্যে থ্রি-পিস, কুর্তি, টপস ও বিভিন্ন ধরনের শাড়ির চাহিদা বেশি। থ্রি-পিস ১৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা, কুর্তি বা টপস ৮০০ থেকে ২০০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। শাড়ির মধ্যে জামদানি ৫০০০ থেকে ১০ হাজার টাকা, টাঙ্গাইল ৬০০ থেকে ২০০০ টাকা, কাতান ২৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা এবং সিল্ক শাড়ি ৩০০০ থেকে ৮০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে কিছু শাড়ির দাম ১৫ হাজার টাকা পর্যন্তও হাঁকছেন বিক্রেতারা।
অন্যদিকে নারীদের পোশাকের জন্য জনপ্রিয় মৌচাক ও আনারকলি মার্কেট এলাকাতেও দেখা গেছে একই চিত্র। মৌচাক, ফরচুন ও সেন্টার পয়েন্ট মার্কেটের গলি ও দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়ে চলাফেরা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রেডিমেড ওয়ান-পিস, টু-পিস ও থ্রি-পিসের দোকানগুলোতে ভিড় বেশি।
খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা চুমকি ইসলাম বলেন, ভেবেছিলাম এখন ভিড় কম থাকবে। কিন্তু এসে দেখি ঈদের আমেজ শুরু হয়ে গেছে। মানুষের ভিড়ে একটু অস্থির লাগছে, তবে এখানে এক জায়গা থেকেই অনেক কিছু কেনা যায় বলে এসেছি।
এদিকে অনেক ক্রেতাই শেষ সময়ের ভিড় এড়াতে আগেভাগেই কেনাকাটা সেরে ফেলছেন। কেউ কেউ মার্চ মাসের বেতন পাওয়ার পরই মার্কেটে এসেছেন।
মৌচাক এলাকার এক ব্যবসায়ী আবু হোসেন বলেন, মাসের শুরুতে অনেকের বেতন হয়েছে। তাই আজ থেকেই কেনাবেচা বেড়েছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, ক্রেতার সংখ্যা আরও বাড়বে।
আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিউ মার্কেট ও গাউছিয়া এলাকায় পুলিশ কন্ট্রোল রুম বসানো হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা ক্রেতাদের সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্ব পালন করছেন।
ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মতে, ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসবে রাজধানীর এসব মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় এবং আশপাশের সড়কে যানজট আরও বাড়তে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব