| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রের বিকল্প নেই: ড. হেলাল ড. হেলাল উদ্দিন

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ০৮, ২০২৬ ইং | ০৪:১৪:২১:পূর্বাহ্ন  |  ৪৫৫১৯৯ বার পঠিত
ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রের বিকল্প নেই: ড. হেলাল ড. হেলাল উদ্দিন

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, দেশে প্রকৃত ন্যায়বিচার, সাম্য ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সমাজের সর্বস্তরে যে বৈষম্য, অবিচার ও নৈতিক অবক্ষয় বিস্তার লাভ করেছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য ইসলামী আদর্শভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা জরুরি।

শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর পল্টন এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পল্টন থানার উদ্যোগে আয়োজিত ঐতিহাসিক বদর দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, বর্তমানে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে নৈতিকতার সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জনগণের আমানত রক্ষার পরিবর্তে তা আত্মসাৎ করার প্রবণতা বাড়ছে। রাষ্ট্র ও সমাজে ন্যায়বিচার ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা না থাকলে মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকে না। তাই নৈতিক অবক্ষয় থেকে বেরিয়ে এসে ইসলামী নীতিমালা অনুসারে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নৈতিক অবক্ষয়ের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর দাবি, সারাদেশে মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিলেও ফলাফলে জনগণের প্রত্যাশা প্রতিফলিত হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জনগণের ভোটের সঠিক প্রতিফলন বাধাগ্রস্ত হয়েছে, যা গণতন্ত্র ও নৈতিকতার জন্য উদ্বেগজনক।

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাবেক এক নারী উপদেষ্টার বক্তব্যের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিষয়টি সামনে এসেছে। তাঁর মতে, প্রশাসনের একটি অংশ এবং ক্ষমতার প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সমন্বয়ে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে একটি নির্দিষ্ট দলকে ক্ষমতায় বসানোর পথ সুগম করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসন লাভের ফলে ক্ষমতাসীন দল বিরোধী মতামত উপেক্ষা করে নিজেদের সুবিধামতো আইন প্রণয়নের সুযোগ পাচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ভালো লক্ষণ নয়।

বক্তব্যে ড. হেলাল উদ্দিন ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের শিক্ষা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বদর যুদ্ধের মূল শিক্ষা হলো—সংখ্যা বা সামরিক শক্তি নয়, বরং ঈমান, ধৈর্য এবং আল্লাহর প্রতি অটল বিশ্বাসই প্রকৃত বিজয়ের চাবিকাঠি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নেতৃত্বে মাত্র ৩১৩ জন সাহাবি বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, যেখানে কুরাইশদের সৈন্যসংখ্যা ছিল এক হাজারেরও বেশি। তবুও ঈমানি শক্তি, ধৈর্য ও ঐক্যের কারণে মুসলমানরা বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হন।

তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, বদর যুদ্ধের সেই আদর্শ ও ত্যাগের শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজে ন্যায়বিচার ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি দাবি করেন, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় কিছু পরিবর্তন ঘটলেও কাঙ্ক্ষিত চূড়ান্ত বিজয় এখনও অর্জিত হয়নি। তাই দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতাকে সচেতন ও প্রস্তুত থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান বলেন, বদর যুদ্ধ আমাদের শিক্ষা দেয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামে আত্মত্যাগের মানসিকতা গড়ে তোলার। তিনি বলেন, বদরের সেই ৩১৩ জন সাহাবি ইসলাম ও ন্যায়বিচারের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন। তাদের আদর্শ অনুসরণ করে সমাজে ন্যায়, নীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

পল্টন থানা আমীর এডভোকেট মারুফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পল্টন থানা সহকারী সেক্রেটারি এনামুল হক এবং থানা কর্মপরিষদ সদস্য মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম মজুমদার ও মোহাম্মদ আল-আমীন রাসেলসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা। অনুষ্ঠানে বদর দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা করা হয় এবং ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪