| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামা কেন গুরুত্বপূর্ণ

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ১১, ২০২৬ ইং | ১১:২৫:১২:পূর্বাহ্ন  |  ৪৪৬৫২৮ বার পঠিত
বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামা কেন গুরুত্বপূর্ণ

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ করেই দ্রুত বাড়তে শুরু করে।

একপর্যায়ে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছায়। যদিও পরে কিছুটা কমে এসেছে, তবুও যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এখনো দাম অনেক বেশি। এই পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে উদ্বেগ বাড়ছে এবং বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরবরাহ সংকটের চাপ

বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল বা নরওয়ের মতো অন্য তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো স্বল্প সময়ে উৎপাদন বাড়িয়ে এই ঘাটতি পূরণ করার মতো সক্ষমতা রাখে না। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে তেল উৎপাদনকারী কয়েকটি দেশ উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরাকে তেল উৎপাদন ৬০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। পাশাপাশি কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও উৎপাদন কমানোর পথে হাঁটছে।

গ্যাস সরবরাহেও প্রভাব

জ্বালানি সংকট শুধু তেলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সামরিক হামলার ঝুঁকি দেখিয়ে কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান উৎপাদন স্থগিত করার পর বিশ্বে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশও এখন বন্ধ রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এশিয়া ও ইউরোপে খুব দ্রুত জ্বালানির ঘাটতি দৃশ্যমান হতে পারে। কারণ এসব অঞ্চল জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

উচ্চমূল্যের জ্বালানি সরাসরি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলে। ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে যুদ্ধ শুরুর পর প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করেছে। সেখানে পাম্পে প্রতি গ্যালন তেলের দাম প্রায় সাড়ে তিন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা এক মাস আগেও ছিল প্রায় ২ দশমিক ৯০ ডলার।

বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যদি তেলের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছে যায়, তবে তা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় শূন্য দশমিক চার শতাংশ কমিয়ে দিতে পারে।

আরও বাড়তে পারে তেলের দাম

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ না হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ব্যারেলপ্রতি দাম ১৫০ ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের দাম এতটা বেড়ে গেলে পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে অন্য খরচ কমাতে বাধ্য হতে হবে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির গতি ধীর করে দিতে পারে।

শিল্প ও কৃষিখাতে প্রভাব

জ্বালানি সংকটের প্রভাব প্রযুক্তি শিল্পেও পড়তে পারে। চিপ উৎপাদনের বড় কেন্দ্র তাইওয়ান জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় গাড়ি, স্মার্টফোনসহ নানা প্রযুক্তিপণ্যের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য অ্যালুমিনিয়াম, সালফার ও ইউরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এসব কাঁচামালের দাম বাড়লে কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি খাতের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ও এপ্রিল মাসে দেশটিতে প্রায় ২৫ শতাংশ সার আমদানি করা হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যাহত হলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যেতে পারে।

রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সংকট সবচেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করতে পারে এশিয়া ও ইউরোপের অর্থনীতিতে। এরই মধ্যে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বাড়লে তা রাজনৈতিক চাপও তৈরি করতে পারে। কারণ জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে সরকার ও নীতিনির্ধারকদের ওপর জনঅসন্তোষ বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত সমাধান না হলে বিশ্ববাজারে তেলের অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং এর প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতি, শিল্প ও কৃষি খাত সব ক্ষেত্রেই।


সূত্র: বিবিসি বাংলা

রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪