আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের সময় গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন নারী চিকিৎসাকর্মীর ওপর গুরুতর নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানী তেহরান–এর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালের দুই নার্স, যারা বিক্ষোভে আহতদের চিকিৎসা করেছিলেন, পরে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক হন। আটক অবস্থায় তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিচয় প্রকাশ করলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এ কারণে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, বিক্ষোভ চলাকালে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দেওয়ার কারণে ওই নার্সদের আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের ওপর কঠোর নির্যাতন চালানো হয়, যার ফলে গুরুতর শারীরিক আঘাতের শিকার হন তারা। চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে, তাদের একজনের অবস্থা এতটাই গুরুতর ছিল যে তাকে একাধিক অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আহত বিক্ষোভকারীদের চিকিৎসা দেওয়া বন্ধ রাখতে হাসপাতালের কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্স সেই নির্দেশ অমান্য করে আহতদের চিকিৎসা চালিয়ে যান। পরে নিরাপত্তা বাহিনী হাসপাতালে প্রবেশ করে কয়েকজন কর্মীকে আটক করে নিয়ে যায়।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, বিক্ষোভে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, বিক্ষোভ-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আটক হাজারো মানুষ নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ–ও। সংস্থাটির মানবাধিকার কাউন্সিল গঠিত অনুসন্ধান মিশনের প্রধান সারা হোসাইন বলেন, ইরানে বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, নির্বিচার গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা তথ্য তারা সংগ্রহ করেছেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, ইরানে বিক্ষোভ দমনে আটক ব্যক্তিদের ওপর সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন তদন্ত ও প্রতিবেদনে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ইরানে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থান এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল