ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি ‘রাষ্ট্রবিহীন’ (stateless) নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেলবাহী জাহাজে অভিযান চালিয়ে তা আটকের কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এক বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন বাহিনী ‘রাইট অব ভিজিট’ নীতির আওতায় এম/টি টিফানি (M/T Tifani) নামের জাহাজটিতে উঠে তল্লাশি চালায়। অভিযানে কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর এবং অবৈধ নৌ-নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমা কোনো নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজের জন্য নিরাপদ আশ্রয় নয়।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানকে সহায়তা দিতে পারে,এমন জাহাজগুলোকে চিহ্নিত করে বাধা দেওয়াই এ অভিযানের উদ্দেশ্য। তারা জানিয়েছে, সমুদ্রপথে অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি চালানো হবে।
জাহাজটির কার্গো, নাবিক বা উৎস সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে জাহাজটি ভারত মহাসাগর-এ শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ার মাঝামাঝি অবস্থানে ছিল বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার একদিন আগেই ইরানের একটি তেলবাহী জাহাজ ‘Silly City’ মার্কিন অবরোধ এড়িয়ে নিজ দেশের জলসীমায় প্রবেশ করেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। এ প্রেক্ষাপটে সামুদ্রিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে এবং চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে না।
অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হুমকির মুখে কোনো আলোচনা তারা মেনে নেবেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে সামুদ্রিক সংঘাত আরও জটিল আকার নিতে পারে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি