| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইরান যুদ্ধের মূল পরিকল্পনাকারী ব্রাড কুপারের পরবর্তি পদক্ষেপ কি ?

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ১৬, ২০২৬ ইং | ০৫:১৫:৫৪:পূর্বাহ্ন  |  ৩০৮৬৭৩ বার পঠিত
ইরান যুদ্ধের মূল পরিকল্পনাকারী ব্রাড কুপারের পরবর্তি পদক্ষেপ কি ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে লোহিত সাগরের উত্তাল জলে হুথি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে মার্কিন নৌবাহিনীর ভাইস অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপার এক নজিরবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নেন। তিনি কেবল দপ্তরের নিরাপদ কক্ষে বসে রিপোর্ট পর্যালোচনা করেননি, বরং সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নেতৃত্ব প্রদান করেন। তার বাস্তবমুখী এই রণকৌশল এবং ঝুঁকি গ্রহণের সাহসই তাকে পূর্ণ অ্যাডমিরাল পদে উন্নীত করে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পথ সুগম করে।

কুপারের এই উত্থান তার যুদ্ধক্ষেত্রের তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং জনসংযোগের এক অনন্য সংমিশ্রণের ফল। তিনি একজন ‘নরমভাষী রাজনীতিবিদ’ এবং ‘পিপল প্লিজার’ হিসেবেও পরিচিত, যা তাকে হোয়াইট হাউসের এবং কংগ্রেসের সঙ্গে অত্যন্ত জটিল সম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করেছে। কুপারের নেতৃত্বে, সেন্টকম এখন ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য হুমকির মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কৌশল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।

লোহিত সাগরের সংকটের সময় হুথি বিদ্রোহীরা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছিল, যার ফলে বিশ্ব বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব পড়েছিল। মার্কিন ও ব্রিটিশ বাহিনী পাল্টা হামলা চালালেও হুথিদের রণকৌশল ভেঙে দেওয়া যাচ্ছিল না। ভাইস অ্যাডমিরাল কুপার সশরীরে সাগরে গিয়ে নেতৃত্ব প্রদান করলেন এবং কার্যকরী সমন্বয় ও আক্রমণাত্মক রণনীতি প্রয়োগের মাধ্যমে বিদ্রোহীদের কার্যক্রম সীমিত করলেন। এই সাহসিকতা তার পূর্ণ অ্যাডমিরাল পদোন্নতি এবং সেন্টকম প্রধান হিসেবে নিয়োগের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২০২৫ সালের শুরুতে কুপার ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সম্ভাব্য সমস্ত সামরিক বিকল্প ও তাদের ফলাফল বিশদে ব্রিফ করার মাধ্যমে কুপার যুদ্ধ পরিকল্পনার কেন্দ্রে ছিলেন। তিনি কেবল একজন দক্ষ সৈনিকই নন, বরং রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও কূটনীতিতেও সমান প্রজ্ঞাশালী। মধ্যপ্রাচ্যের জটিল রাজনৈতিক পরিবেশ এবং ওয়াশিংটনের ক্ষমতার করিডোর— উভয় ক্ষেত্রেই তার দক্ষতা এই যুদ্ধকে পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কুপারের নেতৃত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ধারাবাহিকতা এবং পূর্বসূরির নীতি মেনে চলা। তার পূর্বসূরি জেনারেল মাইকেল ‘এরিক’ কুরিলা যে আঞ্চলিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন, কুপার তা আরও গভীরভাবে বাস্তবায়ন করছেন এবং ইসরায়েলসহ মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করেছেন। কুপারের সঙ্গে ইসরায়েলি সামরিক প্রধানদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ, নিয়মিত ফোন ও ব্যক্তিগত সফরের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যা অন্যান্য মার্কিন কমান্ডারের জন্য বিরল।

অ্যাডমিরাল কুপারের নেতৃত্ব শুধু সামরিক কৌশলেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি পেন্টাগন, কংগ্রেস এবং হোয়াইট হাউসের সঙ্গে গভীর সমন্বয় বজায় রাখেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র পেছনে কুপারের কৌশল ও পরিকল্পনা কেন্দ্রীয়। যুদ্ধের জটিলতা ও মানবিক ঝুঁকি বাড়লেও, তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং সমন্বয় ক্ষমতা সামরিক অভিযানকে কার্যকর এবং স্থিতিশীল রাখছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ প্রকাশ্যেই বলেছেন, কুপারের ওপর তার ‘পূর্ণ আস্থা’ রয়েছে এবং কুপারের গভীর আঞ্চলিক জ্ঞান এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সম্পূর্ণ মনোযোগ আমাদের মিশনের সফলতায় গুরুত্বপূর্ণ। কুপারের নেতৃত্বে সেন্টকম এ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।

অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপারের এই সমন্বিত নেতৃত্ব, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং সাহসিকতা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ অভিযানের জন্য এক নতুন শক্তিশালী কৌশল এবং স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে প্রতীয়মান। সমগ্র বিশ্বের নজর এখন এই কমান্ডারের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর, যা সামরিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি                                                                                                                                                    সূত্র: সিএনএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪