আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ লেবান স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহর খিয়ামের আশপাশে হিজবুল্লাহর সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ চলতে থাকায় এ অভিযান শুরু করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, সোমবার খিয়াম শহরে অন্তত তিনটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। একই দিনে দক্ষিণ লেবাননের ইয়াটার শহরেও দুটি বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এছাড়া দক্ষিণ লেবাননের বুর্জ কালাউইয়া, সুলতানিয়া + চাকরা এলাকাতেও ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে কান্তারা ও আস-সাওয়ানা শহরেও বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দক্ষিণ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে স্থল অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, যার উদ্দেশ্য সীমান্ত এলাকায় ‘অগ্রবর্তী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’ জোরদার করা। তারা দাবি করেছে, এ অভিযানের লক্ষ্য হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ধ্বংস করা এবং যোদ্ধাদের নির্মূল করা।
খিয়ামের কৌশলগত গুরুত্ব
দক্ষিণ লেবাননের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত খিয়াম শহরটি ইসরায়েল সীমান্ত এবং লিটানি নদীর কাছাকাছি হওয়ায় এটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে উত্তর ইসরায়েল ও আশপাশের লেবানিজ সমতলভূমির ওপর নজর রাখা সম্ভব।
বিশ্লেষকদের মতে, শহরটি দক্ষিণ লেবাননের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের সংযোগ সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখান থেকে পূর্ব লেবাননের বেকা ভ্যালির দিকেও যোগাযোগ রয়েছে, যেখানে হিজবুল্লাহর শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল মূলত হিজবুল্লাহর অস্ত্র ও যোদ্ধাদের সরবরাহ লাইন বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যেই এ অভিযান জোরদার করছে।
যুদ্ধের পটভূমি ও মানবিক সংকট
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার জবাবে হিজবুল্লাহ রকেট হামলা চালানোর পর নতুন করে এ সংঘাত শুরু হয়। যদিও ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতির পর থেকে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা চালায়নি বলে জানা গেছে।বর্তমান সংঘাতে ইসরায়েলের হামলায় লেবাননে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮৫০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১০৭ শিশু ও ৬৬ জন নারী রয়েছেন।
এদিকে দক্ষিণ লেবানন এবং রাজধানী বৈরুত-এর বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশের কারণে প্রায় আট লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি