চাঁদপুর প্রতিনিধি: চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় মাত্র ৭ জন মুসল্লিকে নিয়ে আগাম ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রচলিত সময়ের আগেই ঈদের নামাজ আদায়ের এ ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে উপজেলার বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মাইকে ‘ঈদ মোবারক’ ঘোষণা দিয়ে একটি ছোট জামাতের মাধ্যমে নামাজ আদায় করা হয়।
স্থানীয়ভাবে পরিচিত সাদ্রা দরবার শরিফের মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.)-এর ছেলে মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকের অনুসারীরা এ জামাতে অংশ নেন। এতে মুসল্লির সংখ্যা ছিল মাত্র সাতজন।
জানা যায়, আন্তর্জাতিকভাবে চাঁদ দেখার তথ্যের ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের আগেই ঈদ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেন তারা। বিশেষ করে আফগানিস্তানসহ পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালি ও নাইজারে চাঁদ দেখার খবরকে কেন্দ্র করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে প্রথমবারের মতো চাঁদপুরের এ এলাকায় আগাম ঈদ উদযাপন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ইসলাম একটি বৈশ্বিক ধর্ম এবং চাঁদও সবার জন্য অভিন্ন। তাই বিশ্বের কোথাও চাঁদ দেখা গেলে একই দিনে ঈদ উদযাপন করা উচিত—এ বিশ্বাস থেকেই তারা নামাজ আদায় করেছেন।
তবে একই দরবারের ভেতরেই এ নিয়ে মতভেদ দেখা গেছে। দরবারের আরেক অনুসারী ইয়াহিয়া চৌধুরী জানান, চাঁদ দেখার তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ছিল। তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে ওই সময় চাঁদ দেখার সম্ভাবনা না থাকায় তারা এ সিদ্ধান্ত মেনে নেননি।
স্থানীয়দের মতে, এত অল্প সংখ্যক মুসল্লি নিয়ে এবং প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে ঈদ উদযাপনের ঘটনা আগে কখনও দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি