| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

উপসাগরজুড়ে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু

কুয়েতের তেল শোধনাগারে আবারও হামলা

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ২০, ২০২৬ ইং | ১৫:২৫:৪০:অপরাহ্ন  |  ২৭২৭৪৬ বার পঠিত
কুয়েতের তেল শোধনাগারে আবারও হামলা
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি, আলজাজিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে জ্বালানি খাতে বিস্তৃত হামলায়। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কুয়েতের বৃহত্তম তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরানের ব্যাপক আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

শুক্রবার ভোরে কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর একাধিক ইউনিটে আগুন ধরে যায়। প্রতিদিন প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল তেল প্রক্রিয়াজাতকারী এই স্থাপনাটি দেশের সবচেয়ে বড় শোধনাগার।

কুয়েতের জাতীয় তেল কোম্পানি জানিয়েছে, হামলার পর কয়েকটি ইউনিট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে আগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে।

এই হামলাকে বিশ্লেষকরা বৃহত্তর এক আঞ্চলিক অভিযানের অংশ হিসেবে দেখছেন। ইরান এর আগে ইসরায়েলের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলার জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী(আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী এবং ইসরায়েলের ভেতরের লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালিয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হুমকির মুখে রয়েছে। বাহরাইনে ইরানি হামলার ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি গুদামে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা স্বল্প সময়ের মধ্যে এক ডজনের বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, উপসাগরীয় জ্বালানি স্থাপনায় হামলা তাদের সক্ষমতার “একটি অংশ মাত্র” এবং ইরানের নিজস্ব স্থাপনায় আবার হামলা হলে তারা “শূন্য সংযম” দেখাবে।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা ইসরায়েল একাই চালিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প’র অনুরোধে ভবিষ্যতে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা থেকে বিরত থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

ইরানের হামলায় কাতারের রাস লাফান শিল্প শহরে- বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই স্থাপনায় হামলার ফলে বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ১৭ শতাংশ কমে গেছে এবং বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে।

কাতারএনার্জির প্রধান সাদ আল-কাবি জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো মেরামতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। তার মতে, এই ধ্বংসযজ্ঞ অঞ্চলটিকে অন্তত ১০ থেকে ২০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায়। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এর ফলে জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং তেলের দাম বেড়ে গেছে।

এর প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎ রেশনিং ও অফিস সময় কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত এখন “অত্যন্ত বিপজ্জনক নতুন পর্যায়ে” প্রবেশ করেছে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এদিকে রাতে ইসরায়েল ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যখন দেশটি পারস্য নববর্ষ নওরোজ উদযাপন করছিল।

অন্যদিকে শুক্রবার সকালে ইরানের দ্বিতীয় দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে।বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, দ্রুত এই সংঘাত নিয়ন্ত্রণে না এলে এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪