আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিদেশি কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত সব তেলক্ষেত্রে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করেছে ইরাক। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনজন জ্বালানি কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইরাকের তেল মন্ত্রণালয়ের ১৭ মার্চের এক চিঠিতে বলা হয়েছে, অভূতপূর্ব সামরিক তৎপরতার কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। বিশ্বে মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরাকের বেশিরভাগ অপরিশোধিত তেল রপ্তানিও এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল।
চিঠিতে আরও বলা হয়, রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের তেল সংরক্ষণ সক্ষমতা প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলো ট্যাংকার পাঠাতে না পারায় রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা সোমো (SOMO) প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তেল রপ্তানি সম্ভব হচ্ছে না।
এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট তেলক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে তেল মন্ত্রণালয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এ সিদ্ধান্তের জন্য কোম্পানিগুলো কোনো ক্ষতিপূরণ পাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিস্থিতির উন্নয়ন অনুযায়ী উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ‘ফোর্স মেজর’ পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম, ব্যয় ও জনবল নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরাকের তেলমন্ত্রী হায়ান আবদেল-গনি জানান, দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলো থেকে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বসরা তেল কোম্পানির উৎপাদন দৈনিক ৩৩ লাখ ব্যারেল থেকে কমিয়ে ৯ লাখ ব্যারেলে নামিয়ে আনা হয়েছে। উৎপাদিত তেল বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ রিফাইনারিগুলো চালাতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেল উৎপাদন ও রপ্তানিতে এই ধস ইরাকের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। কারণ, দেশটির সরকারি ব্যয়ের প্রায় পুরোটা এবং আয়ের ৯০ শতাংশের বেশি আসে অপরিশোধিত তেল বিক্রি থেকে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত ইতোমধ্যে আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে লেবাননসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ সীমান্তে হামলা চালানোর পর ইসরায়েলও পাল্টা আক্রমণ জোরদার করেছে, ফলে পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা আরও বেড়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি