আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার ২৩তম দিনে ইরান, মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক জলসীমায় উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন,হরমুজ প্রণালী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় সম্পূর্ণ খোলা না হলে ইরানের শক্তি কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করা হবে।
ইরানে অবস্থা: শনিবার ইরানের তেহরান শহরের পূর্বাঞ্চলে নতুন বিস্ফোরণ ঘটেছে, যা ইসরাইলি হামলার ফল।ইরানি সেনারা হুমকি দিয়েছেন, যদি ইরানের শক্তি কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করা হয়, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত শক্তি অবকাঠামোকে আঘাত করবে।
ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, নাতানজ পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র “অপরাধমূলক হামলা” চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) নিশ্চিত করেছে যে কোনও অস্বাভাবিক তেজস্ক্রিয়তা ঘটেনি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, হামলায় ইরানে ১,৫০০-এর বেশি নিহত এবং প্রায় ২০,৯৮৪ আহত। সাতটি হাসপাতাল খালি করতে হয়েছে, ৩৬টি অ্যাম্বুল্যান্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গালফ অঞ্চলে উত্তেজনা: সৌদি আরব প্রায় ৬০টি ইরানি ড্রোন ধ্বংস করেছে, যা মূলত দেশটির পূর্বাঞ্চলের শক্তি কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করেছিল।তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি রিয়াদে ছোঁড়া হয়, এর মধ্যে একটি ধ্বংস করা গেছে, বাকি দু’টি জনশূন্য এলাকায় পড়ে।
কাতার, বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলো ইরানি কূটনীতিকদের বের করতে নির্দেশ দিয়েছে।কাতারে একটি সামরিক হেলিকপ্টার প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বিধিবদ্ধ এলাকায় বিধস্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল: ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, যদি হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খোলা না হয়, তাহলে বড় শক্তি কেন্দ্রগুলোকে প্রথমে ধ্বংস করা হবে।
মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, ৫,০০০ পাউন্ডের বোমা ইরানের উপকূলীয় ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ফেলা হয়েছে। ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ডিমোনা ও আরাদ শহরে ১০০ জন আহত হয়েছে। ইরান দাবি করেছে ২০০ জন নিহত হয়েছে, কিন্তু ইসরাইলের পক্ষ থেকে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতান্যাহু জানিয়েছেন, জরুরি উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম শক্তিশালী করা হয়েছে। স্কুল বন্ধ এবং জনসমাবেশ সীমিত করা হয়েছে, পাশাপাশি ইসরাইলি সেনা ২০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি