| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

হিজবুল্লাহ-ইসরায়েল যুদ্ধ লেবাননে সাম্প্রদায়িক বিভাজন তীব্র করছে

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ২৭, ২০২৬ ইং | ২৩:১৯:০৯:অপরাহ্ন  |  ১৮৮৬৭২ বার পঠিত
হিজবুল্লাহ-ইসরায়েল যুদ্ধ লেবাননে সাম্প্রদায়িক বিভাজন তীব্র করছে
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান যুদ্ধ লেবাননের ভঙ্গুর রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সমাজকে চরম সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে বাস্তুচ্যুতি, রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

১৯৭৫-৯০ সালের গৃহযুদ্ধের পর লেবানন নানা সংকটের মুখোমুখি হলেও বর্তমান সংঘাতকে সবচেয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির অন্যতম হিসেবে দেখছেন দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ইসরায়েলের লাগাতার হামলা এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে এলাকা ছাড়ার নির্দেশে হিজবুল্লাহ-সমর্থিত শিয়া জনগোষ্ঠীর বড় অংশ দেশটির খ্রিস্টান, দ্রুজ ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের এলাকায় আশ্রয় নিচ্ছে। এতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।

অনেক এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে আশ্রয় নিতে গেলে বাস্তুচ্যুতদের পরিচয়পত্র যাচাই করা হচ্ছে, কারণ স্থানীয়দের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে,তাদের উপস্থিতি ইসরায়েলি হামলার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

লেবাননের সরকার, যার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম এবং জোসেফ আউন লোচনার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর জবাবে হিজবুল্লাহর নেতা মাহমুদ কামাতি সরকারকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসিদের সহযোগী ভিশি ফ্রান্সের সঙ্গে তুলনা করেন, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।

সংঘাত শুরুর পর থেকে লেবাননে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে,যা দেশটির মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি।বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি “টাইম বোমা” হয়ে উঠতে পারে, যদি দ্রুত সমাধান না হয়।

ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে লিতানি নদী পর্যন্ত একটি “নিরাপত্তা অঞ্চল” তৈরির পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে। তাদের দাবি, উত্তর ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বহু শিয়া বাসিন্দাকে দক্ষিণে ফিরতে দেওয়া হবে না।

তবে ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের অভিযান শুধুমাত্র হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে, নির্দিষ্ট কোনো জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। যদিও বাস্তবে দক্ষিণ লেবাননের শিয়া অধ্যুষিত গ্রামগুলোতেই বেশি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

খ্রিস্টান আইনপ্রণেতা নাদিম গেমায়েল সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে শিয়াদের অন্য এলাকায় ঠেলে দিয়ে সাম্প্রদায়িক সংঘাত উসকে দিতে পারে।

অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ বলেন, কিছু মানুষ বাস্তুচ্যুতদের বিষয়ে “সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি” থেকে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে লেবাননে রাষ্ট্র ও হিজবুল্লাহর সহাবস্থান ছিল, কিন্তু বর্তমান সংঘাত সেই ভারসাম্য ভেঙে দিতে পারে।

খ্রিস্টান নেতা অ্যালেন আউন বলেন, রাষ্ট্র ও হিজবুল্লাহর অস্ত্রের সহাবস্থান,যা আমরা বহু বছর ধরে দেখেছি এখন শেষের পথে, যার সামাজিক ও রাজনৈতিক বড় প্রভাব পড়তে পারে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪