আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আবারও বড় ধরনের বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ‘নো কিংস’ শিরোনামে শনিবার (২৮ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের হাজারো শহরে একযোগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আয়োজকদের দাবি, দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ৩ হাজার ২০০-এর বেশি কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তাদের আশা, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একদিনে সবচেয়ে বড় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পরিণত হতে পারে।
প্রধান সমাবেশগুলো অনুষ্ঠিত হবে নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, ওয়াশিংটন, ডি.সি. এবং মিনেসোটার টুইন সিটিজ এলাকায়। তবে আয়োজকদের মতে, অংশগ্রহণকারীদের বড় একটি অংশ ছোট শহর ও কমিউনিটি থেকে আসবেন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।
‘নো কিংস’ আন্দোলনের সূচনাকারী সংগঠন অবিভাজ্যএর সহ-প্রতিষ্ঠাতা লেহ গ্রিনবার্গ বলেন, এই আন্দোলনের গুরুত্ব শুধু অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নয়, বরং তারা কোথা থেকে অংশ নিচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন (মিডটার্ম) ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। আয়োজকদের দাবি, রিপাবলিকান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আইডাহো, ওয়াইমিং, মন্টানা এবং উটাহতেও এবার অংশগ্রহণ বেড়েছে। পাশাপাশি উপশহর এলাকাগুলোতেও বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন এসব কর্মসূচিকে তুচ্ছ করে মন্তব্য করেছেন, এগুলো মূলত ‘ট্রাম্প-বিদ্বেষীদের থেরাপি সেশন’, যা কেবল সংবাদমাধ্যমেই গুরুত্ব পায়।
শনিবারের কর্মসূচি ‘নো কিংস ডে অব অ্যাকশন’-এর তৃতীয় আয়োজন। এর আগে গত বছরের ১৪ জুন, ট্রাম্পের জন্মদিনে শুরু হওয়া প্রথম দফায় প্রায় ২ হাজার ১০০ স্থানে ৪০ থেকে ৬০ লাখ মানুষ অংশ নেন। পরবর্তী অক্টোবরের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭০ লাখে পৌঁছায়, যা ২ হাজার ৭০০-এর বেশি শহরে ছড়িয়ে পড়ে।
সে সময় সরকারি কার্যক্রম স্থগিত (শাটডাউন), অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার এবং বড় শহরগুলোতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের প্রতিবাদে ব্যাপক জনস্রোত তৈরি হয়।
এদিকে চলমান এই বিক্ষোভ এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান নিয়ে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক সংঘাত—দুই দিক থেকেই চাপের মুখে পড়তে পারেন ট্রাম্প প্রশাসন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি