আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি : সোমবার মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার মান প্রথমবার ৯৫-এর ঘর অতিক্রম করে এক ঐতিহাসিক রেকর্ড পতন হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বাজারের অস্থিরতা কমাতে সম্প্রতি নানাবিধ পদক্ষেপ নিলেও মুদ্রার এই নিম্নমুখী প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হয়নি। বিশ্ববাজারের নেতিবাচক পরিস্থিতি এবং ক্রমাগত বিদেশি পুঁজি প্রত্যাহারের চাপে এদিন টাকার মান ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি ডলারে ৯৫.২০-এ গিয়ে ঠেকেছে।
গত শুক্রবার দেরিতে নেওয়া আরবিআই-এর একটি পদক্ষেপে ব্যাঙ্কগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, প্রতিটি ব্যবসায়িক দিন শেষে তাদের নেট ওপেন টাকার পজিশন ১০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে, যা আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত ফাটকা কারবার কমানো এবং মুদ্রা বাজারের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আনাই ছিল এই নির্দেশের লক্ষ্য। এর ফলে ব্যাঙ্কগুলো দেশীয় বাজারে ডলার বিক্রি করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা তাদের বিদ্যমান 'আর্বিট্রেজ ট্রেড' বা অনশোর এবং নন-ডেলিভারেবল ফরওয়ার্ড বাজারের মূল্যের পার্থক্য থেকে মুনাফা করার প্রক্রিয়াকে সীমিত করবে।
ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকির আশঙ্কায় গত কয়েক সপ্তাহে এই দুই বাজারের মধ্যে ব্যবধান ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে এই ধরনের আর্বিট্রেজ পজিশনের পরিমাণ ২৫ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের এই হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও টাকার ওপর চাপ প্রবল। অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম ভারতের আমদানি খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট বা চলতি হিসাবের ঘাটতিকে প্রসারিত করছে। একইসাথে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে উদীয়মান বাজারগুলো থেকে বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
টাকার এই পতনের পাশাপাশি শেয়ার বাজারেও ধস নেমেছে; সোমবার নিফটি ৫০ সূচক প্রায় ২ শতাংশ পড়েছে, যা ২০২০ সালের মার্চের পর সবচেয়ে খারাপ মাসিক পতনের পথে রয়েছে। সব মিলিয়ে মার্চ মাসে টাকার মান ৪ শতাংশের বেশি কমেছে, যা গত সাত বছরের মধ্যে এক মাসে সর্বোচ্চ পতন। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম না কমলে অথবা বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ পুনরায় শুরু না হলে নিকট ভবিষ্যতে টাকার এই টালমাটাল অবস্থা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি