| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

হাইতিতে গণহত্যা: নিহত অন্তত ৭০: মানবাধিকার সংস্থা

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ৩১, ২০২৬ ইং | ১৪:১৩:৫৮:অপরাহ্ন  |  ১৬১০৬৭ বার পঠিত
হাইতিতে গণহত্যা: নিহত অন্তত ৭০: মানবাধিকার সংস্থা
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি রয়টার্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ক্যারিবীয় দেশ হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাং হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত হওয়ার দাবি করেছে একটি মানবাধিকার সংস্থা, যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি। দেশটির আর্টিবোনিত অঞ্চলের পেতিত-রিভিয়েরের কাছে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, স্থানীয় সময় রোববার ভোর থেকে শুরু হয়ে সোমবার ভোর পর্যন্ত চলা এই হামলায় আরও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ডিফেন্সার্স প্লাস। তবে সরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা ১৬ থেকে ১৭ জনের মধ্যে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, জঁ-দেনি এলাকার আশপাশের গ্রামীণ জনপদে গ্যাং সদস্যরা হামলা চালিয়ে ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং সাধারণ মানুষ প্রাণ বাঁচাতে পালাতে বাধ্য হয়।

মানবাধিকার সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, সহিংসতায় প্রায় ৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর আগে জাতিসংঘের হিসাবেও বলা হয়, আশপাশের এলাকায় গ্যাং হামলার কারণে কয়েকদিনে অন্তত ২ হাজার মানুষ ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দেশটিতে জাতিসংঘের মিশন বিনুহ ঘটনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি নিহতের সংখ্যা ১০ থেকে ৮০ জনের মধ্যে হতে পারে বলে উল্লেখ করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

এক যৌথ বিবৃতিতে ডিফেন্সুর প্লাস ও স্থানীয় আরেকটি সংগঠন জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকর প্রতিক্রিয়ার অভাব এবং আর্টিবোনিত অঞ্চলকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে ছেড়ে দেওয়া কর্তৃপক্ষের চরম ব্যর্থতার প্রমাণ।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তায় ‘গ্রান গ্রিফ’ গ্যাংয়ের নেতা লাকসন এলান হামলার দায় স্বীকার করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এ আক্রমণ চালানোর কথা বলেন।

হাইতির গুরুত্বপূর্ণ কৃষি অঞ্চল আর্টিবোনিতে দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা চলছে। রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্স ছাড়িয়ে এখন দেশের অন্যান্য এলাকাতেও গ্যাং সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে।

দেশটির পুলিশ জানায়, তারা সাঁজোয়া যান নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এর আগে গ্যাং সদস্যরা সড়কে গর্ত করে নিরাপত্তা বাহিনীর অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং নিহতদের মরদেহ দুটি মর্গে রাখা হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থার হিসাবে, হামলায় অন্তত ৫০টি ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত হাইতিতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ সহিংসতায় নিহত হয়েছে। শক্তিশালী ও স্বাধীন গ্যাংগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় প্রতিরোধ গোষ্ঠীর সংঘর্ষে পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ‘গ্রান গ্রিফ’ ও ‘ভিভ আনসাম’সহ কয়েকটি গ্যাংকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, অস্ত্র ও মাদক পাচারসহ নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

সাম্প্রতিক এই হামলাটি অঞ্চলটিতে সংঘটিত ধারাবাহিক গণহত্যার সর্বশেষ ঘটনা। ২০২৪ সালের অক্টোবরে একই গ্যাংয়ের হামলায় পঁ সঁদে এলাকায় ১১৫ জন নিহত হয়েছিল।

বর্তমানে দেশটিতে গ্যাং সহিংসতায় প্রায় ১৪ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা খাদ্যসংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪