স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে ৩৩ জন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও তাদের সবাই হামে (মিজেলস) আক্রান্ত ছিল না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। একই সঙ্গে হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার (১ এপ্রিল) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইউনিসেফ প্রতিনিধিদের সাথে মিটিং শেষে হাম টিকা কার্যক্রম ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সহায়তায় করা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রাজশাহী মেডিক্যালে ৩৩ জন শিশু মৃতদের মধ্যে ১৫ জন শিশুর মৃত্যু হামজনিত কারণে হয়েছে বলে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি শিশুদের মৃত্যু অন্যান্য জটিলতা, বিশেষ করে নিউমোনিয়ার কারণে হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সব শিশুই হাম রোগে আক্রান্ত নয়। এ বিষয়টি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে অযথা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি না হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আক্রান্তদের ঘিরে ‘রিং ইমিউনাইজেশন’ পদ্ধতিতে টিকাদান কার্যক্রম চালু করা হবে, যার মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ উদ্যোগে ইউনিসেফ গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা দিচ্ছে। এজন্য স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের এ সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
আগামী রোববার থেকে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে টিকাকেন্দ্রে গিয়ে শিশুদের টিকা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। গণমাধ্যমকেও ইতিবাচক সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়াতে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব