| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ভ্যাট অটোমেশন

এনবিআরের অডিটের জালে ৬০০ প্রতিষ্ঠান

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ০২, ২০২৬ ইং | ১১:২২:২০:পূর্বাহ্ন  |  ১৪৩৯৪৭ বার পঠিত
এনবিআরের অডিটের জালে ৬০০ প্রতিষ্ঠান

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ভ্যাট অডিটে স্বচ্ছতা আনতে এবং ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমাতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত সংস্কার শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন চালু হওয়া অটোমেটেড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে প্রথম ধাপে দেশের ৬০০টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানকে অডিটের আওতায় আনা হয়েছে।

নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ৪০৫টি উৎপাদনকারী, ৯৮টি সেবাপ্রদানকারী, ৬৫টি খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ী এবং ৩২টি আমদানিকারক-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান।

এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন থেকে আর কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানকে অডিটের জন্য নির্বাচন করতে পারবেন না। পুরো প্রক্রিয়াটি হবে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল। এর ফলে অডিটের নামে হয়রানি বন্ধ হবে এবং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ বলেন, দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী অডিট প্রক্রিয়াকে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ করতে এই ডিজিটাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ে কোনো ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপ থাকবে না।

নতুন ব্যবস্থায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস (ইএফডি), পস মেশিন ও সফটওয়্যার থেকে বিক্রির তথ্য সরাসরি এনবিআরের সার্ভারে যুক্ত হবে। একই সঙ্গে ভ্যাট রিটার্ন ও আমদানি সংক্রান্ত তথ্যও স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি করবে।

এই ডাটাবেজে বিক্রয়, ক্রয়, ইনপুট ও আউটপুট ভ্যাটের তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হবে। কোথাও গরমিল ধরা পড়লেই সফটওয়্যার অ্যালগরিদম তা শনাক্ত করবে। যেমন হঠাৎ বিক্রি কম দেখানো, অস্বাভাবিক ভ্যাট দাবি বা পূর্বের তুলনায় বড় পার্থক্য দেখা গেলে সেই প্রতিষ্ঠানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।

এনবিআর জানিয়েছে, এই সিস্টেমে ২০টি নির্দিষ্ট ঝুঁকি সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব সূচকের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অডিটের জন্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হবে, যেখানে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত প্রভাবের কোনো সুযোগ থাকবে না।

এনবিআরের মতে, এই ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় এক নতুন যুগের সূচনা হবে। এতে একদিকে যেমন সৎ করদাতারা হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন, অন্যদিকে রাজস্ব ফাঁকি শনাক্ত করাও সহজ হবে।

অডিটে যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের তথ্য গোপন বা অনিয়ম ধরা পড়ে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে ঝুঁকির সূচক বাড়ানো এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে। সামগ্রিকভাবে কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসনকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব করতেই এই অটোমেশন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪