চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার খান মামুদের ডাঙ্গী গ্রামে কুয়েত প্রবাসী এক ব্যক্তির জমি দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার খান মামুদের ডাঙ্গী গ্রামের আব্দুস ছালামের ছেলে কুয়েত প্রবাসী রাজিব মাহমুদ (৩৭)-এর বসতভিটা সংলগ্ন ১৮ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে একই গ্রামের মেহেদী হাসান (৪৫), আকতার বেপারী (৬০), রোস্তম বেপারী (৬০), আব্দুর রব বেপারী (৬২)সহ তাদের লোকজন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রতিপক্ষরা ইতোমধ্যে জমির বাউন্ডারি ওয়ালের তিনটি পিলার ভেঙে ফেলেছে এবং মালিকানার সাইনবোর্ড খুলে নিয়ে গেছে। এছাড়া সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে জমিতে মহড়া দেওয়া এবং মোবাইল ফোনে প্রবাসী রাজিব মাহমুদকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার সকালে নিজ বসতভিটায় সংবাদ সম্মেলন করেন প্রবাসী রাজিব মাহমুদ। তিনি লিখিত বক্তব্যে জানান, প্রবাস জীবনের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে তিন মাস আগে তিনি ১০.৩৯ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পাশাপাশি তার মা রেজিয়া বেগমের ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমিসহ মোট ১৮ শতাংশ জমির মালিক তারা। জমির নামজারি সম্পন্ন করে নিয়মিত খাজনাও পরিশোধ করছেন বলে জানান তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, তাদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে প্রতিপক্ষরা একটি ভুয়া দলিল তৈরি করে জমির মালিকানা দাবি করছে এবং বারবার দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতিপক্ষরা তাতে উপস্থিত হয়নি। এমনকি থানার ডাকা মীমাংসা বৈঠকেও তারা অংশ নেয়নি।
রাজিব মাহমুদ আরও জানান, গত ২৯ মার্চ গভীর রাতে প্রতিপক্ষরা জমিতে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং পরদিন পুনরায় এসে বাউন্ডারি ওয়ালের পিলার ভেঙে ফেলে। একই সঙ্গে ভাড়াটিয়া লোকজন দিয়ে জমিতে অবস্থান নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এছাড়া হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েজ মেসেজের মাধ্যমে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় চরভদ্রাসন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ আগামী ৪ এপ্রিল উভয় পক্ষকে কাগজপত্রসহ হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে এরই মধ্যে প্রতিপক্ষ মেহেদী হাসান ১ এপ্রিল ফরিদপুর আদালতে গিয়ে বিরোধীয় জমির ওপর ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করেন, ফলে থানার মাধ্যমে মীমাংসা প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়।
চরভদ্রাসন থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি আদালতে যাওয়ায় পুলিশের পক্ষে আর মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব নয়। এখন আদালতই সিদ্ধান্ত দেবেন।
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষ মেহেদী হাসান বলেন, আমি গঞ্জর আলী বেপারী গংদের কাছ থেকে জমি ক্রয় করেছি। আমার দলিল পরে হলেও জমির প্রকৃত মালিকানা আমার। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু