ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধাবস্থার মতো উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানে হামলা প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ‘বিধ্বংসী’ হামলার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি, ইতোমধ্যে ইসরাইলের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
ইসরাইলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে নতুন করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সক্রিয় করা হয়েছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা হামলা প্রতিহত করতে কাজ করছে।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা তেলআবিব ও ইলাত অঞ্চলে ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও সামরিক শিল্প স্থাপনাগুলোতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় ইসরাইলের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ওই চিঠিতে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন এই যুদ্ধ কি আদৌ “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?
চিঠিতে তিনি বলেন, এই সংঘাতের মাধ্যমে আসলে আমেরিকার জনগণের কী স্বার্থ পূরণ হচ্ছে? তিনি দাবি করেন, আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনোই আগ্রাসন বা যুদ্ধ শুরুর পথ বেছে নেয়নি; বরং নিজেদের নিরাপত্তার জন্যই পদক্ষেপ নিচ্ছে।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ইরানকে ‘হুমকি’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে মূলত বিশ্ব রাজনীতির ক্ষমতাধরদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে। তার মতে, ইরানের আশপাশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং সেখান থেকে চালানো হামলাগুলোই প্রকৃতপক্ষে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাগুলোকে ‘বৈধ আত্মরক্ষা’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।
সূত্র: আলজাজিরা
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম