আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় মোকাবিলায় আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় দেড় লাখ কোটি ডলারের বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাব করেছে হোয়াইট হাউস। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এ প্রস্তাব মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হয়।
বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী পেন্টাগনের ব্যয় প্রায় ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ বৃদ্ধির রেকর্ড গড়তে পারে। যুদ্ধ পরিস্থিতি, অস্ত্রভাণ্ডার পুনর্গঠন এবং সামরিক প্রস্তুতি জোরদারের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে রেখে এই বড় ধরনের বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বাজেট পরিকল্পনায় দেখা গেছে, প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি অন্যান্য খাতে ব্যয় কমানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। মোট প্রায় ৭ হাজার ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বেসামরিক ব্যয় ১০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অপ্রয়োজনীয়, অপচয়মূলক এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বিভিন্ন কর্মসূচি বাতিল বা সীমিত করার মাধ্যমে এই কাটছাঁট করা হবে। একই সঙ্গে কিছু দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকার থেকে স্থানীয় সরকারের কাছে হস্তান্তরের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
পেন্টাগন এখনো বাজেটের বিস্তারিত খাতভিত্তিক হিসাব প্রকাশ না করলেও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আইনপ্রণেতাদের দ্রুত এই বাজেট অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি প্রস্তাব করেছেন, বাজেটের একটি বড় অংশ নিয়মিত সরকারি অর্থায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাস করা হোক এবং অতিরিক্ত ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিশেষ আইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দলীয় সমর্থনে অনুমোদন দেওয়া হোক।
বাজেট প্রস্তাবের আগে ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা একাধিক বৈঠকে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাদের মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং তা দ্রুত পুনর্গঠন জরুরি হয়ে পড়েছে।
একটি ব্যক্তিগত বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, অন্যান্য খাতের তুলনায় সামরিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘ডে-কেয়ার বা মেডিকেয়ারের মতো সামাজিক ব্যয় একসঙ্গে সামলানো কঠিন; এগুলো রাজ্য পর্যায়ে পরিচালনা করা যেতে পারে, কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তা আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।’
হোয়াইট হাউস এই বক্তব্যের একটি ভিডিও ইউটিউবে প্রকাশ করলেও পরে তা সরিয়ে নেওয়া হয়, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে এ বাজেট নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ইরান যুদ্ধের প্রকৃত অবস্থা ও ব্যয় সম্পর্কে প্রশাসন এখনো পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা দেখায়নি। ফলে এত বড় অঙ্কের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে এবং সামাজিক খাতে ব্যয় সংকোচনের প্রভাবও পড়তে পারে।