আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা শুরু করে। মিসর ও তুরস্কও এতে যুক্ত থাকলেও প্রধান ভূমিকা পালন করে পাকিস্তান, যা মার্কিন আহ্বানেই শুরু হয়েছিল।
মার্চজুড়ে গোপন চ্যানেলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে ইসলামাবাদ। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ১৫ দফা সম্বলিত একটি শান্তি প্রস্তাব তেহরানে পাঠানো হয়। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতে এপ্রিলের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে ইসলামাবাদে সরাসরি সংলাপ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
তবে শুক্রবার ইরানি কর্মকর্তারা পাকিস্তানকে জানিয়েছেন, তারা সংলাপে প্রতিনিধি পাঠাবে না। তাদের মতে, ট্রাম্পের প্রস্তাবে উত্থাপিত অধিকাংশ শর্তই গ্রহণযোগ্য নয়। মিসর ও তুরস্কের কর্মকর্তাদের বরাতেও এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।
ইরানের এই অবস্থানের ফলে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রত্যাশিত বৈঠক কার্যত অনিশ্চয়তায় পড়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানায়, সংলাপের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ তুলে নিলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার খসড়াও তৈরি করা হয়েছিল।
এর আগে ১ এপ্রিল ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছিলেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিরতি চান এবং বিনিময়ে হরমুজ প্রণালির অবরোধ প্রত্যাহারে প্রস্তুত। তবে পরের দিন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে ‘ভুয়া ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং অবস্থানগত দূরত্বের কারণে আপাতত কূটনৈতিক সমাধানের পথ কঠিন হয়ে পড়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি