| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শিক্ষার্থীর চেয়ে শিক্ষক বেশি: মাদ্রাসা ঘরে আলু

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ০৬, ২০২৬ ইং | ২১:৩০:৩৭:অপরাহ্ন  |  ৩৩২৭১০ বার পঠিত
শিক্ষার্থীর চেয়ে শিক্ষক বেশি: মাদ্রাসা ঘরে আলু

জয়পুরহাট প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের কালাইয়ে মাত্র ৯ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১৭ জন শিক্ষক, এমন ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে উপজেলার বোড়াই রাহিমা খাতুন দাখিল মাদ্রাসায়। 

জানা যায়, ১৯৮০ সালের ১ জানুয়ারী বোড়াই রাহিমা খাতুন দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকেই অকার্যকর কমিটির কারণে প্রতিষ্ঠানটি ছাত্র-ছাত্রী আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়। যার প্রেক্ষিতে এই প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমতে থাকে কিন্তু শিক্ষক নিয়োগের সংখ্যা কমেনি। বর্তমানে এ মাদ্রাসায় শিক্ষকের সংখ্যা শিক্ষার্থীর থেকে দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে করে শিক্ষার মান উন্নয়নের সুযোগ থাকলেও প্রশ্ন উঠেছে কার্যকারিতা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে। 

মাদ্রাসাটির ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে কথা উঠলে আগের করা লিস্ট এ দেখা যায় ২৪৫ জনের নাম। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ৬ষ্ঠ, ৭ম,৮ম,৯ম ও ১০ম শ্রেনী মিলে মোট ৯ জন ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত আছে। প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা লিস্টে ২৪৫ জন শিক্ষার্থী থাকলেও অধিকাংশ ছাত্র ছাত্রীরা এ মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকেন। আর উপস্থিতির হার শতকরা ৩ শতাংশ। 

এছাড়া দেখা যায় মাদ্রাসার মাঠে এবং ক্লাসরুম বন্ধ রেখে আলু রেখেছেন বর্তমান কমিটির সভাপতি রবিউল ইসলাম। যা নিশ্চিত করে মাদ্রাসার পিয়ন বলেন তাকে বারবার আলু সরানোর বিষয়ে অনুরোধ করেও তিনি আলু সরিয়ে নেননি । 

ঐ মাদ্রাসার ১০ শ্রেণীর শিক্ষার্থী আব্দুল কাইয়ুম জানান, একজন শিক্ষার্থীর পিছনে দুইজন করে শিক্ষক থাকে তবুও কোনো ছাত্র ছাত্রীরা এখানে কেন পড়তে আসে না? কারণ শিক্ষকের ছেলে মেয়েদের অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করায় আর এখান থেকে উপবৃত্তিতে নাম দিয়ে টাকা উত্তোলন করেন।

ওই মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বলেন, লেখাপড়া নিয়মিত হলেও ছাত্র ছাত্রীরা থাকেন না তাঁর শ্রেণিতে, দুই তিনজন আসে। পুরো মাদ্রাসা মিলে ১৫ থেকে ২০ জন ছাত্র-ছাত্রীও নেই।

এছাড়াও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ৫ আগষ্ট এর পর রবিউল ইসলামকে সভাপতি করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। যে কমিটির বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকরা এমনকি দাঁতা সদস্যরাও জানেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বোড়াই রাহিমা খাতুন দাখিল মাদ্রাসার সুপারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। পাশাপাশি ০১ এপিলের (বুধবার) হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে তিনি দেখাতে পারেননি। এমনকি ওই প্রতিষ্ঠানের কৃষি শিক্ষিকা সুলতানা রাজিয়া মাদ্রাসা সুপারের উপস্থিতিতে হাজিরা খাতা দেখানো যাবেনা বলে চিৎকার চেচামেচি করেন এবং আপনাদের কেন হাজিরা খাতা দেখাতে হবে, আপনারা কে, আপনাদের হাজিরা খাতা দেখাতে আমরা বাধ্য নই ইত্যাদি বলে অশালীন মন্তব্য ও আচরণ করতে থাকেন। 

সেখানে মাদ্রাসা সুপার উপস্থিত থাকলেও এ বিষয়ে মাদ্রাসা সুপার ওই শিক্ষিকাকে কোন কিছু না বলে নীরব ভূমিকা পালন করে যান। পড়ে জানা যায় উক্ত কৃষি শিক্ষিকা সুলতানা রাজিয়া মাদ্রাসার বর্তমান কমিটির সংরক্ষিত মহিলা শিক্ষক সদস্য। 

এবিষয়ে কালাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ জাবেদ ইকবাল হাসান বলেন,আমি ঐ প্রতিষ্ঠানে এখনো যাইনি। অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি। এবিষয়ে কিছুই জানি না। বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে জানানো হবে।  

এবিষয়ে কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শামীম আরা বলেন, আমি বিষয়টি শিক্ষা অফিসকে জানিয়েছি এবং তাদেরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি।

রিপোর্টার্স২৪/মিতু 

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪