| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বিচ্ছেদের পর বন্ধুত্ব, ধানক্ষেতে রক্তাক্ত পরিণতি

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ১১, ২০২৬ ইং | ১৬:৫৭:৫৫:অপরাহ্ন  |  ২৬৬৯৮০ বার পঠিত
বিচ্ছেদের পর বন্ধুত্ব, ধানক্ষেতে রক্তাক্ত পরিণতি

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: একটি বিচ্ছেদ, একটি ঝুলে থাকা মামলা এবং দিনভরের সাজানো সখ্যতা সবকিছুর সমাপ্তি ঘটল একটি নিথর মরদেহে। জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে নিয়ে দিনভর ঘুরে বেড়ানোর পর সন্ধ্যায় তাকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সাবেক স্বামী বাবলু মিয়ার বিরুদ্ধে। তবে ঘটনার নাটকীয় মোড় আসে তখন, যখন ক্ষেতলাল থানার নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েকদিনের মাথায় তাঁর চৌকস নেতৃত্বে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হন। 

নিহত আশুরা (৩৫) ছিলেন বাবলু মিয়ার তৃতীয় স্ত্রী। পারিবারিক কলহের জেরে তাদের সংসার ভেঙে গেলেও রেশ রয়ে গিয়েছিল আদালতে। আশুরার দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন এবং যৌতুক মামলা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই বাবলুর সঙ্গে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়দের ধারণা, এই মামলা থেকে বাঁচতেই পরিকল্পিতভাবে আশুরাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষেন বাবলু। 

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালটা শুরু হয়েছিল অন্যরকম এক আবহে। সাবেক স্ত্রী আশুরাকে নিয়ে বাবলু যখন বাড়ি থেকে বের হন, তখন অনেকেরই মনে হয়েছিল হয়তো সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। দিনভর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এবং স্থানীয় বাজারে তাদের হাসিমুখে ঘুরতে দেখেন অনেকেই। কিন্তু সন্ধ্যার অন্ধকার নামার পরপরই দৃশ্যপট বদলে যায়। হঠাৎ করেই আশুরার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। 

রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার তুলসীগঙ্গা ইউনিয়নের আটিদাশড়া মৌজায় সিরাজুল ইসলামের ধানক্ষেতে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন গ্রামবাসী। কাছে গিয়ে তারা নিথর দেহটি আশুরার বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ক্ষেতলাল থানা পুলিশ। সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা যায়, আশুরার মাথার পেছনে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা খুনের নৃশংসতাকে স্পষ্ট করে। পুলিশ সেখান থেকে আলামত হিসেবে রক্তমাখা লুঙ্গি, গেঞ্জি ও স্যান্ডেল জব্দ করে।

ঘটনার পর পরই বাবলু গা-ঢাকা দিলেও রেহাই মেলেনি। ক্ষেতলাল থানার বর্তমান  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  (ওসি) মোখলেছুর রহমান  সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেই অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর সরাসরি তত্তাবধানে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। আধুনিক প্রযুক্তি এবং স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্ত বাবলু মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। 

নতুন ওসির এই দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। এলাকাবাসী বলছেন, দায়িত্ব নেওয়ার কয়েকদিনের মাথায় এমন একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের জট খুলে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা পুলিশের পেশাদারিত্বেরই প্রমাণ। 

নিহত আশুরার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবলুর অপর দুই স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হলেও মূল ঘাতক বাবলুকে গ্রেপ্তারের পর এখন মামলার জট পুরোপুরি খুলতে শুরু করেছে।

রিপোর্টার্স২৪/মিতু 

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪