ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে ড্রোন, গ্রেনেডসহ বিভিন্ন সমরাস্ত্র পাচার এবং ইরানের হয়ে অস্ত্র কেনাবেচার অভিযোগে ইরানি বংশোদ্ভূত এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত শামিম মাফিকে লস অ্যাঞ্জেলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়।
মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শামিম যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ইরান সরকারের পক্ষে অস্ত্র কেনাবেচা ও বিভিন্ন প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতেন।
তদন্তকারীদের দাবি, ঘাতক ড্রোন, গ্রেনেড এবং অন্যান্য ছোট সমরাস্ত্র পাচারের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন তিনি। বিশেষ করে চলমান সংঘাতপূর্ণ দেশ সুদানে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওমানে নিবন্ধিত ‘অ্যাটলাস ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে তিনি এই কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। বেআইনি অস্ত্র পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সরকারি কৌঁসুলিরা আদালতে জানিয়েছেন, প্রায় ৭ কোটি ডলারের অস্ত্রচুক্তি সম্পন্ন করতে ভূমিকা রেখেছেন শামিম। এর মধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত Mohajer-6 drone-সহ একাধিক ড্রোন সরবরাহের ব্যবস্থা করেছিলেন বলে অভিযোগ। এছাড়া ২০২৩ সাল থেকে সুদানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রায় ৫৫ হাজার বোমার ফিউজ সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে।
তদন্তকারীরা বলছেন, একাধিক দেশে বেআইনিভাবে অস্ত্র পাচার করা হয়েছে এবং তার মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব অস্ত্র কোথায় ও কার কাছে পৌঁছেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আদালতে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ইরানের গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ সালে ইরান ছাড়েন শামিম এবং ২০১৬ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তবে তার দাবি, তেহরানের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
তার আইনজীবী জানিয়েছেন, ২০২০ সালে ইরান সরকার তার উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছিল। পাশাপাশি অভিযোগ রয়েছে, ইরানের গোয়েন্দা সংস্থা তাকে যুক্তরাষ্ট্রে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ার প্রস্তাব দিয়েছিল এবং সেই খরচ বহনের আশ্বাস দিয়েছিল।এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় মার্কিন গোয়েন্দা মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি