আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি-তে ইরানের সম্ভাব্য পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো। প্রণালিটি বন্ধ করা, নৌচলাচলে বাধা সৃষ্টি বা নিরাপদ চলাচলের জন্য ফি আরোপের যেকোনো উদ্যোগকে ‘অবৈধ কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)-এর এক বিশেষ বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতিতে এ অবস্থান জানানো হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এতে কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের মতো নিরাপত্তা ও অবাধ নৌচলাচল পুনঃস্থাপন জরুরি। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে সামরিক সমন্বয় বাড়ানো, যৌথ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
জিসিসি নেতারা সতর্ক করে বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে যেকোনো বিঘ্ন বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ জানিয়েছে ইরান। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরান বর্তমানে ‘ভেঙে পড়ার মতো অবস্থায়’ রয়েছে এবং নেতৃত্ব সংকট কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী পাল্টা কড়া অবস্থান জানিয়েছে। দেশটির এক মুখপাত্র বলেন, ইরান এখনও ‘যুদ্ধাবস্থায়’ রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক প্রস্তুত।
তিনি শত্রুপক্ষকে সতর্ক করে বলেন, কোনো পক্ষ নতুন পদক্ষেপ নিলে তাদের সম্পূর্ণ নতুন ধরনের সরঞ্জাম ও কৌশলের মুখে পড়তে হবে এবং রণক্ষেত্রে কঠিন জবাব দেওয়া হবে।
মুখপাত্র আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও প্রতিপক্ষ শক্তির প্রতি আস্থার অভাবে ইরান যুদ্ধকালীন সতর্কতা বজায় রেখেছে এবং সম্ভাব্য লক্ষ্য নির্ধারণে জোরালো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।