নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: তীব্র আন্দোলন ও হরতালের হুঁশিয়ারির মুখে কমানো হয়েছিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী দুটি যাত্রীবাহী বাসের ভাড়া। কিন্তু কয়েক মাসের মাথায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাড়া আবারও ৫ টাকা বাড়িয়ে ৫৫ টাকা করা হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যাত্রীরা।
যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বাসভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে তারা অবগত নন। তাদের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানানো হয়।
এদিকে বাসভাড়া বাড়ানোয় ক্ষুব্ধ যাত্রীরা জানান, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে অযৌক্তিকভাবে অতিরিক্ত ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। গত তিন দিন ধরে সিটি বন্ধন পরিবহন ও উৎসব ট্রান্সপোর্টের বাসগুলোতে চলাচল করতে ৫৫ টাকা করে ভাড়া পরিশোধ করছেন যাত্রীরা, যা আগে ছিল ৫০ টাকা।
বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম। এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এ রুটে সর্বোচ্চ ২ টাকা ১৮ পয়সা ভাড়া বাড়তে পারে, কিন্তু মালিকরা বাড়িয়েছেন ৫ টাকা।
পরিবহন মালিক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পথে আগে বেসরকারি কয়েকটি পরিবহনের বাস চলাচল করলেও বর্তমানে সিটি বন্ধন পরিবহন ও উৎসব ট্রান্সপোর্টের শতাধিক বাস চলাচল করছে। এ পথে ৪৫ টাকায় নন-এসি বাসে যাত্রী পরিবহন করা হলেও কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে ভাড়া এক লাফে বাড়িয়ে ৬০ টাকা করা হয়। পরে তা কমিয়ে ৫৫ টাকা করা হয়।
২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের মুখে আন্দোলনের পর নারায়ণগঞ্জে বাসভাড়া কমানোর দাবিতে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম আধাবেলা হরতালেরও ঘোষণা দেয়। পরে ১৬ নভেম্বর তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বাস মালিক ও যাত্রী অধিকার ফোরামের সঙ্গে বৈঠক করে ভাড়া কমিয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করেন।
এই সিদ্ধান্তের নয় মাসের মাথায় গত বছরের ২০ আগস্ট বাসভাড়া পুনরায় বাড়ানো হয়। পরে সমালোচনার মুখে তা স্থগিত করা হয়। ফলে কয়েক মাস ৫০ টাকায় যাত্রীরা চলাচল করলেও গত ১ মে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ভাড়া ৫৫ টাকা করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
এ পথে নিয়মিত যাত্রী মাহফুজুর রহমান বলেন, “তেলের দাম বাড়ছে ঠিক আছে, কিন্তু আমাদের আয় তো বাড়েনি। হুট করে ভাড়া বাড়লে সংসার চালাতে সমস্যা হয়।”
যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, সরকার নির্ধারিত হিসাবে ভাড়া বাড়ার পরিমাণ প্রায় ২ টাকা ১৮ পয়সা, কিন্তু বাড়ানো হয়েছে ৫ টাকা। তিনি বলেন, এ বিষয়ে যাত্রীদের সঙ্গে আলোচনা হয়নি, যা অনাকাঙ্ক্ষিত।
গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম সুজন অভিযোগ করেন, প্রশাসনকে পাশ কাটিয়ে মালিকরা একতরফাভাবে ভাড়া বাড়িয়েছে, যা পরিবহন খাতে সিন্ডিকেটের প্রভাবেরই প্রমাণ।
তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি রওশন আলী বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ভাড়া বৃদ্ধি ছাড়া উপায় ছিল না। তার দাবি, আগের ৫৫ টাকার ভাড়াই যৌক্তিক।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, বিষয়টি তাদের জানানো হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন