আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের কেরালা রাজ্যে বিশ্বে প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত হয়েছিল বামপন্থী সরকার। তারাই এখন ভারতের শেষ রাজ্য, যেখান থেকে ক্ষমতার পতন ঘটলো বাম সরকারের। ফলে এখন ভারতের কোনো রাজ্যেই আর বামপন্থীরা ক্ষমতায় নেই।
দক্ষিণ ভারতের কেরালায় সোমবার (৫ মে) বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট এলডিএফ সরকারকে হটিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোট। ১৪০ আসনের বিধানসভায় ইউডিএফ প্রায় ৯৮টি আসনে এগিয়ে বিজয়ী হয়েছে, যেখানে এলডিএফ মাত্র ৩৫টি আসন পেয়েছে।
ভারতের বাম রাজনীতির জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। কেরালা রাজ্যটি দীর্ঘদিন ধরে বামপন্থী রাজনীতির একটি শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে কেরালায় বিশ্বের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কমিউনিস্ট সরকার ক্ষমতায় আসে। ১৯৫৭ সালের এপ্রিল থেকে ১৯৫৯ সালের জুলাই পর্যন্ত কেরালা শাসন করে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই)। এটি ছিল ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু সরকারের আগের সময়ের কথা। নেহেরু পরবর্তীতে ভূমি ও শিক্ষা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার পর সিপিআইকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করেন।
১৯৭৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের মসনদে বসে বামফ্রন্ট। ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ৩৪ বছর রাজ্যটি শাসন করে তারা। ১৯৯৩ সাল থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত ত্রিপুরা ছিল বামদের দখলে। পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন বাম জোট এলডিএফও কয়েক দফায় কেরালা শাসন করেছে। গত ১০ বছরও তারা ছিল টানা ক্ষমতায়। বলা হচ্ছে– বাম সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ, সাংগঠনিক দুর্বলতা, তরুণ প্রজন্মের নতুন আদর্শে ঝুঁকে পড়াই ভারতে বামদের পতনের অন্যতম কারণ।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন নিজের নির্বাচনী এলাকা ধর্মদমে জয়ী হলেও তার মন্ত্রিসভার প্রায় ১৩ জন মন্ত্রীর কপালে জুটেছে পরাজয়। এই মহাপতন নিঃসন্দেহে এলডিএফের জন্য এক বিশাল ধাক্কা, যা তাদের তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার স্বপ্নকে ভূপাতিত করেছে এক নিমিষে। আর কেরালা পরিণত হয়েছে ভারতের শেষ বামপন্থী রাজ্য হিসেবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন