| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

হাজার কৃষ্ণচূড়ায় লাল হওয়ার কথা ছিল যে গ্রাম; নিষ্ঠুরতায় নিভে যাচ্ছে সেই স্বপ্ন

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ০৬, ২০২৬ ইং | ১৮:২১:২০:অপরাহ্ন  |  ৮৭৬ বার পঠিত
হাজার কৃষ্ণচূড়ায় লাল হওয়ার কথা ছিল যে গ্রাম; নিষ্ঠুরতায় নিভে যাচ্ছে সেই স্বপ্ন

সুলতান আল এনাম, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের লক্ষণদিয়া গ্রাম প্রকৃতির সবুজে ঘেরা এক শান্ত জনপদ। চারদিকে গাছপালা থাকলেও এই গ্রামের এক ব্যক্তি দেখেছিলেন ভিন্ন এক স্বপ্ন। তিনি চেয়েছিলেন, শুধু সবুজ নয়—সবুজের বুকে ফুটে উঠুক কৃষ্ণচূড়ার উজ্জ্বল লাল, যেন পুরো গ্রাম একদিন রূপ নেয় এক অনন্য নান্দনিকতায়।

স্বপ্নবাজ সেই মানুষটির নাম আমিনুল ইসলাম। ছোটবেলা থেকেই গাছের প্রতি গভীর ভালোবাসা ছিল তার। সেই ভালোবাসা থেকেই শুরু হয় এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। নিজের ব্যক্তিগত অর্থ, সময় ও শ্রম দিয়ে বছরের পর বছর ধরে গ্রামের বিভিন্ন রাস্তার ধারে, খোলা জায়গায় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে লাগাতে থাকেন কৃষ্ণচূড়ার চারা। লক্ষ্য ছিল—লক্ষণদিয়াকে ‘কৃষ্ণচূড়া গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত করা।

তিনি বিশ্বাস করতেন, কয়েক বছর পর গাছগুলো বড় হয়ে যখন ফুলে ভরে উঠবে, তখন লাল রঙে ঢেকে যাবে গ্রামের পথঘাট। সেই সৌন্দর্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসবে মানুষ। সেই স্বপ্ন নিয়ে প্রায় এক হাজার কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগান তিনি এবং নিয়মিত যত্ন নিতে থাকেন।

কিন্তু কিছুদিন পর শুরু হয় দুর্বৃত্তদের তৎপরতা। গাছের গোড়ায় বিষাক্ত কেমিকেল প্রয়োগ করা হয়। ফলে একে একে মরতে থাকে গাছগুলো। বর্তমানে প্রায় এক হাজার গাছের মধ্যে টিকে আছে মাত্র প্রায় ৫০টি।

স্থানীয়রা জানান, গ্রীষ্ম এলেই সেই অল্প কয়েকটি গাছে ফুটে ওঠে আগুনরাঙা কৃষ্ণচূড়া ফুল। লাল ফুলে সেজে ওঠা গ্রামের পথ মুগ্ধ করে পথচারী ও দর্শনার্থীদের। প্রতিদিনই আশপাশসহ দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এই সৌন্দর্য দেখতে আসেন এবং ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

তবে গাছ লাগানোর শুরুতে কিছু সহযোগিতা থাকলেও পরে তা আর দেখা যায়নি। কেউ গাছের ডাল ভেঙেছে, কেউ অবহেলায় নষ্ট করেছে, আবার কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতি করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রকৃতিপ্রেমী আমিনুল ইসলাম বলেন,
“অনেক কষ্ট করে, নিজের টাকায় গাছগুলো লাগিয়েছিলাম। যত্ন করেছি। কিন্তু কিছু মানুষ গাছের গোড়ায় বিষ দিয়ে একে একে মেরে ফেলেছে। এটা শুধু গাছ ধ্বংস নয়, একটা স্বপ্ন ধ্বংস। যদি গাছগুলো বেঁচে থাকত, তাহলে আমাদের গ্রামটা আজ অনেক সুন্দর হতো।”

স্থানীয় বাসিন্দা সুজন বিপ্লব বলেন,
“একজন মানুষের একক উদ্যোগে এমন একটি পরিবেশবান্ধব প্রকল্প গড়ে উঠেছিল। এটি সংরক্ষণ করা গেলে এটি একটি মডেল গ্রাম হতে পারত। গ্রামীণ পর্যটনের সম্ভাবনাও তৈরি হতো।”

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের আগেই উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। এখনো বাকি গাছগুলো রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, আমিনুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লক্ষণদিয়ার পথে দাঁড়িয়ে থাকা অল্প কয়েকটি কৃষ্ণচূড়া গাছ আজও লাল ফুলে ফুটে ওঠে। কিন্তু সেই লালের মাঝে মিশে আছে হারিয়ে যাওয়া হাজারো স্বপ্নের কষ্ট। তবুও আশাবাদী আমিনুল ইসলাম। তিনি চান নতুন করে আবার গাছ লাগাতে, আবারও স্বপ্ন দেখতে। তার বিশ্বাস—একদিন হয়তো আবারও লাল হয়ে ফুটবে পুরো গ্রাম, আর লক্ষণদিয়া ফিরে পাবে তার পরিচয় ‘কৃষ্ণচূড়ার গ্রাম’।

প্রসঙ্গত, গাছপ্রেমী আমিনুল ইসলাম শুধু কৃষ্ণচূড়া নয়, সব ধরনের গাছের প্রতিই ভালোবাসা ছড়িয়ে রেখেছেন। নিজের বাড়িতে মা আখতার বানুর নামে একটি সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন তিনি, যার চারপাশে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ দিয়ে সাজানো হয়েছে। স্থানীয়রা এটিকে এখন ‘গাছ বাড়ি’ নামে চেনেন।

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪