কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ার গরুর খামারিরা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। গরুর খাদ্যের উচ্চমূল্য ও বাজারে দামের অনিশ্চয়তায় কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পেলে ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কা করছেন জেলার খামারিরা।
সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরু-ছাগল লালন-পালন করায় দেশজুড়ে কুষ্টিয়ার গবাদিপশুর আলাদা সুনাম রয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কুষ্টিয়ার কোরবানির পশুর ব্যাপক চাহিদা থাকায় ঈদ সামনে এলেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন এখানকার খামারি ও কৃষক পরিবারগুলো। এবারও জেলার বিভিন্ন খামার ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় দুই লাখের বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলার পশুর খামার ঘুরে দেখা যায়, অনেক খামারি সীমিত পরিসরে পশু প্রস্তুত করছেন। সরেজমিনে হাটশ হরিপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন খামারি কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গরু-ছাগল প্রস্তুতের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
হাসান আলী অ্যাগ্রোর খামারি মনোহার আলী বলেন, “আগে তুলনামূলক বেশি গরু পালন করা হতো। এখন লাভ কমে যাওয়ায় অনেকেই সীমিত সংখ্যক গরু প্রস্তুত করছেন। লাভ বেশি হলে উৎপাদনও বাড়ত।”
একই এলাকার পিয়াস অ্যাগ্রোর খামারি মো. পিয়াস জানান, বাজারে পশুর দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় এবার অল্প সংখ্যক গরু প্রস্তুত করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের খামারে কোনো ধরনের স্টেরয়েড বা ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করা হয় না। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবারেই গরু মোটাতাজা করা হয়। এজন্য কুষ্টিয়ার পশুর আলাদা চাহিদা রয়েছে।”
আরেক খামারি মনোয়ার হোসেন বলেন, “ভারত থেকে গরু না এলে স্থানীয় খামারিরা ভালো দাম পাবেন এবং কিছুটা লাভবান হবেন।”
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আল মামুন হোসেন মণ্ডল জানান, কুষ্টিয়ার প্রায় ১৯ হাজার খামারে দুই লাখের বেশি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলার চাহিদা প্রায় এক লাখ পশু হলেও অতিরিক্ত পশু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, খামারিদের দেশীয় খাবার ব্যবহার করে প্রাকৃতিক উপায়ে পশু প্রস্তুতের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় টিকা ও চিকিৎসাসেবাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন কোরবানির পশুর জন্য বিদেশি পশুর ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে এসেছে। তবে ভারত থেকে পশু আমদানি হলে দেশের খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন