খাদেমুল বাবুল, জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শওকত জামিলের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ১০ বছরের চাকরি জীবনে তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শওকত জামিল ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার লক্ষীখোলা গ্রামের আব্দুল কাববার ও শিউলী খাতুনের ছেলে। তিনি ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর নেত্রকোনার মদন উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর কর্মরত থাকাকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, প্রকল্পের অর্থ ছাড়ে তিনি ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন গ্রহণ করতেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানো এক অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, মদন উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রায় ৪০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় পিআইও হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সম্প্রতি তাকে অন্যত্র বদলির আদেশ দেওয়া হলেও তিনি এখনো বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শওকত জামিল ঢাকার রামপুরায় বেনামে আবাসিক ফ্ল্যাট, ময়মনসিংহ শহরে বাণিজ্যিক প্লট ও বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন। এছাড়া গ্রামের বাড়িতে মাছের প্রজেক্ট, মসজিদ নির্মাণ এবং শ্বশুরবাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুরে গরুর খামার, আম ও পেঁপের বাগানসহ বিশাল সম্পদের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। তার ব্যবহৃত বিলাসবহুল গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ ২৯-৬৮১১ বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে অফিস সংস্কারে ১০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় এবং সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনের নামে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্য। তাদের দাবি, পরিদর্শনকারী কর্মকর্তাদের সম্মানীর কথা বলে এই অর্থ নেওয়া হতো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহার করে মাসুম নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে পিআইও কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, তথ্য চাইলে শওকত জামিল সরাসরি ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পিআইও শওকত জামিল ফোন রিসিভ করেননি। পরে মাসুম নামে এক ব্যক্তি ফোন করে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
জামালপুর জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ হেল কাফি জানান, সরিষাবাড়ীর পিআইও শওকত জামিলের বদলির আদেশ পাওয়া গেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন