| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কালশীর বস্তিতে অগ্নিকাণ্ড

ঈদের আনন্দ কেড়ে নিল আগুন, খোলা আকাশের নিচে শত পরিবার

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ২৬, ২০২৬ ইং | ১৩:৩৬:০২:অপরাহ্ন  |  ৭৪৬ বার পঠিত
ঈদের আনন্দ কেড়ে নিল আগুন, খোলা আকাশের নিচে শত পরিবার

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকার বাউনিয়াবাঁধ বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শত শত পরিবারের ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে চরম দুঃখ ও অনিশ্চয়তায়। এক রাতেই হারিয়ে গেছে ঘরবাড়ি, স্বপ্ন আর জীবনের সব সঞ্চয় এখন খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে নিঃস্ব মানুষগুলো।

সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো বস্তিতে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ চেষ্টার পর রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০০ থেকে ১৫০টি ঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে দেখা যায়, পোড়া টিন, কাঠ, কাপড় ও ভাঙাচোরা ঘরের ধ্বংসাবশেষের ভেতরে নিঃস্ব মানুষজন নিজেদের টিকে থাকা সামান্য জিনিস খুঁজে ফেরার চেষ্টা করছেন। কেউ আবার পোড়া টিন ও ভাঙারির মালামাল কুড়িয়ে জীবিকা বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।

স্থানীয়দের ভাষায়, ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে এমন বিপর্যয় তাদের জীবনকে পুরোপুরি এলোমেলো করে দিয়েছে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাবার বিতরণ করছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের একজন সুনামগঞ্জের বকুলা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “দুইটা রুমে ৯ জন থাকতাম। আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন মাথার ওপর ছাদ নাই। ঈদে আমরা আসমানের নিচে থাকবো।”

তিনি আরও জানান, হঠাৎ আগুন লাগার সময় তারা শুধু শরীরের পরনের কাপড় নিয়েই বের হতে পেরেছেন।

অন্যদিকে, একই এলাকার বাসিন্দা মো. নবাব জানান, তার ১৫টি ঘর ও একটি মুদি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, “২০ বছর ধরে যা কামাই করছি, সব এক আগুনে শেষ। দোকানের কয়েক লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। ঈদের দিন আমাদের এখন রাস্তায় থাকতে হবে।”

কিশোরগঞ্জের শাহীন আলম জানান, ঈদের পর রিকশা কেনার জন্য তিনি ৪২ হাজার টাকা তুলেছিলেন, যা আগুনে পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, “এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাবো বুঝতে পারছি না। ঈদ আমাদের কাছে শুধু কষ্টের নাম হয়ে গেল।”

এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্তরা পোড়া ঘর ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করেছেন। কেউ কেউ পোড়া টিন ও মালামাল বিক্রি করে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

মোহাম্মদ সবুজ নামে আরেক বাসিন্দা জানান, তার ১১টি ঘর পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, “যা পাই, তা দিয়াই আবার শুরু করতে হবে।”

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত মোতালেব বলেন, আগুন লাগার পরপরই সবাইকে এক কাপড়ে বের হতে হয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবেন তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় আছেন তিনি।

এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঈদের আনন্দ হারিয়ে গেছে শতাধিক পরিবারের জীবন থেকে—তাদের সামনে এখন একটাই বাস্তবতা, নতুন করে আবার সবকিছু শুরু করার সংগ্রাম।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪