| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

তিন মাস বন্ধ সুন্দরবন, বিপাকে বনজীবীরা

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ৩১, ২০২৬ ইং | ০০:০২:৩৭:পূর্বাহ্ন  |  ৫২৯ বার পঠিত
তিন মাস বন্ধ সুন্দরবন, বিপাকে বনজীবীরা

বাগেরহাট প্রতিনিধি: জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণীর নিরাপদ প্রজনন এবং বনজ সম্পদের সুরক্ষায় আগামী তিন মাস সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে বন বিভাগ। ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, মধু সংগ্রহ এবং পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, জুন থেকে আগস্ট সময়টি সুন্দরবনের মাছ, জলজ প্রাণী ও বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ সময়ে অধিকাংশ মাছ ও জলজ প্রাণী ডিম ছাড়ে এবং বনাঞ্চলের উদ্ভিদরাজির স্বাভাবিক পুনর্জন্ম প্রক্রিয়া চলতে থাকে। ফলে প্রতিবছরের মতো এবারও বন ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করতে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জেলে, মৌয়াল ও পর্যটকদের জন্য নতুন পাস বা অনুমতিপত্র দেওয়া ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে। বন বিভাগ ১ জুনের আগে সুন্দরবনে অবস্থানরত সবাইকে বন এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।

তবে এ সিদ্ধান্তে উদ্বেগে পড়েছেন সুন্দরবননির্ভর হাজারো জেলে, মৌয়াল ও বনজীবী। তাদের ভাষ্য, বছরের এই তিন মাস আয়-রোজগারের প্রধান উৎস বন্ধ থাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক পরিবারকে ধারদেনা ও ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়। নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েন বলে দাবি করেছেন।

বনজীবীরা কর্মহীন এই সময়ের জন্য খাদ্য সহায়তা, ভর্তুকি এবং বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জীববৈচিত্র্য রক্ষার উদ্যোগ প্রয়োজনীয় হলেও জীবিকার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, জলজ প্রাণী ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থেই প্রতিবছর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এ সময়ে কাউকে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

তিনি জানান, গত ২৪ মে থেকে নতুন কোনো অনুমতিপত্র দেওয়া বন্ধ রয়েছে। এছাড়া সুন্দরবননির্ভর জেলে পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য সহায়তা ও প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এ সহায়তা পাবে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে সুন্দরবনে মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা চালু হয়। শুরুতে এর মেয়াদ ছিল দুই মাস। পরে মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে ২০২১ সাল থেকে প্রতিবছর ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসের জন্য মাছ ধরা, মধু সংগ্রহ, পর্যটন কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪