বাগেরহাট প্রতিনিধি: বয়সের ভারে ন্যুব্জ শরীর, অসুস্থতা আর চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে জীবন কাটছে বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কোড়ামারা গ্রামের বাসিন্দা ৮০ বছর বয়সী বিনোদ বিশ্বাসের। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তার একমাত্র চাওয়া—মাথা গোঁজার জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং দুবেলা খাবারের নিশ্চয়তা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একসময় পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেন বিনোদ বিশ্বাস। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন কারণে ছড়িয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি আরও একাকী হয়ে পড়েন। বর্তমানে গ্রামের এক কোণে জরাজীর্ণ একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন তিনি।
বয়সজনিত নানা শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি এক হাত প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ায় এখন আর কোনো কাজ করার সক্ষমতা নেই তার। ফলে জীবিকা নির্বাহেরও কোনো উপায় নেই। স্থানীয়দের সহানুভূতি ও সহযোগিতার ওপর নির্ভর করেই চলছে তার জীবন। কেউ খাবার দিলে খাবার জোটে, না হলে অনাহারেই কাটাতে হয় দিন।
প্রতিবেশীরা জানান, বৃষ্টি কিংবা ঝড়ের সময় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে তার বসতঘর। ভাঙাচোরা চালা ও দেয়ালের কারণে প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয় তাকে। অর্থাভাবে অনেক সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও নিতে পারেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা মামুন শেখ বলেন, “বিনোদ বিশ্বাসকে দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট করতে দেখছি। বয়স ও অসুস্থতার কারণে তিনি এখন পুরোপুরি অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। একটি নিরাপদ ঘর পেলে অন্তত শেষ বয়সে শান্তিতে থাকতে পারতেন।”
আরেক বাসিন্দা আমিনুল হাওলাদার বলেন, “গ্রামের মানুষ সাধ্যমতো সহযোগিতা করে। তবে স্থায়ীভাবে তার খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবান মানুষের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।”
বিনোদ বিশ্বাস বলেন, “এখন আর কাজ করতে পারি না। শরীর ভেঙে গেছে। অনেক সময় না খেয়েই থাকতে হয়। জীবনের শেষ সময়ে শুধু একটু আশ্রয় আর দুবেলা খাবারের নিশ্চয়তা চাই।”
স্থানীয়দের দাবি, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত তার জন্য সরকারি সহায়তা, একটি নিরাপদ বাসস্থান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি। তাদের মতে, সমাজের সচেতন ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা পেলে অসহায় এই বৃদ্ধ জীবনের শেষ দিনগুলো কিছুটা স্বস্তি ও মর্যাদার সঙ্গে কাটাতে পারবেন।
রিপোর্টার্স২৪/ মিতু