নোয়াখালী প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শনকালে হাসপাতাল পরিচালনায় ব্যর্থতার অভিযোগে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে ক্লোজড করা হয়।
একই সঙ্গে নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেনকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসাসেবা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন। এ সময় তিনি হাজিরা খাতা ও ডিউটি রোস্টার পরীক্ষা করে ২৩ জন চিকিৎসকসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মস্থলে দেরিতে উপস্থিত হওয়ার তথ্য পান।
মন্ত্রীর আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনরা হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়া, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, রোগীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের নিম্নমান, টয়লেটের অপরিচ্ছন্নতা এবং বিভিন্ন সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেন।
পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, প্যাথলজি ল্যাব, বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং টয়লেট ঘুরে দেখেন। হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ওষুধের মজুত এবং রোগীদের জন্য দেওয়া সেবার মানও পর্যবেক্ষণ করেন। অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
মন্ত্রীর উপস্থিতির পর হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে নেমে পড়েন। এ সময় নোংরা টয়লেট ঢেকে রাখার ঘটনায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল ৩টার দিকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষ থেকে বের হওয়ার পর মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি হ্যান্ড মাইক নিয়ে তার ক্লোজডের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির মধ্যে মন্ত্রী হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে দেশের স্বাস্থ্য খাতে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে নানা ধরনের সমস্যা দেখা যাচ্ছে এবং নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালেও অমানবিক পরিস্থিতির চিত্র পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, হাসপাতালের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও এর অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। পরিদর্শনে যেসব অব্যবস্থাপনা পাওয়া গেছে, তার দায় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এড়াতে পারেন না। এ কারণেই তাকে ক্লোজড করা হয়েছে।
এ সময় নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এন. এম. নাসিরুদ্দিন, সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব হারুন অর রশিদ আজাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এবিএম জাকারিয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রোগী ও তাদের স্বজনরা আশা প্রকাশ করেছেন, এই আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ মিতু