গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় পানি পান করার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দুই শতাধিক শ্রমিক। অসুস্থ শ্রমিকদের উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ আশপাশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১০টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় অবস্থিত ড্রেসম্যান গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে শ্রমিকরা কারখানায় কাজে যোগ দেন। কাজ শুরুর কিছুক্ষণ পর তারা কারখানার সরবরাহকৃত পানি পান করেন। এর অল্প সময় পর কারখানার চতুর্থ তলায় কর্মরত কয়েকজন শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে মাথা ঘোরা, বমি, দুর্বলতা এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
একপর্যায়ে একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে অন্যান্য ফ্লোরের শ্রমিকরাও অসুস্থ হতে শুরু করেন। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে অসুস্থ শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। অসুস্থদের মধ্যে অধিকাংশই নারী শ্রমিক বলে জানা গেছে।
কারখানার শ্রমিক জাহিদ, মাজেদুল ও তন্নি আক্তার জানান, তারা প্রতিদিনের মতো কারখানার সরবরাহ লাইনের পানি পান করেছিলেন। তবে পানি পান করার কিছুক্ষণ পরই শ্রমিকদের মধ্যে অস্বাভাবিক শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। অনেক শ্রমিক মাথা ঘুরে মেঝেতে পড়ে যান, কেউ কেউ বমি করতে থাকেন এবং কয়েকজন অচেতন হয়ে পড়েন।
তারা আরও জানান, অসুস্থ শ্রমিকদের একটি অংশকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও অনেককে প্রাথমিকভাবে কারখানার ভেতরেই চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদেরও বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়।
কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম মুনমুন বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে একের পর এক অসুস্থ শ্রমিক হাসপাতালে আসতে শুরু করেন। রোগীর চাপ এত বেশি যে হাসপাতালে ধারণক্ষমতার সংকট তৈরি হয়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে তাদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে। কারখানার পানির উৎস ও পানির মান পরীক্ষা করে দেখা হবে বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পানি দূষণের কারণে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে থাকতে পারেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম