স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়ার রাতে আবেগে ভেঙে পড়েছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে পৌঁছে দেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
তবে প্রথম গোল করার পর মেসির চোখের জল দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন, এটি হয়তো তার ঐতিহাসিক অর্জনের আবেগ।
ম্যাচ শেষে মেসি নিজেই জানান, তার কান্নার কারণ ফুটবল নয়। ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন কিছু মুহূর্ত তাকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছিল। মেসি বলেন, ‘প্রথম গোলের পর আমি কেঁদেছিলাম। তবে সেটি ফুটবলের সঙ্গে সম্পূর্ণ সম্পর্কহীন একটি বিষয়। আমি কিছু কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। পুরো দল ও আমার সতীর্থদের কাছে কৃতজ্ঞ, কারণ তারা সবসময় আমার পাশে ছিল এবং আমাকে শক্তি দিয়েছে।’
পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, মেসির এই দুশ্চিন্তার মূল কারণ তার বাবা হোর্হে মেসির শারীরিক অবস্থা। আর্জেন্টাইন সাংবাদিক এদুয়ার্দো ফেইনম্যান রেডিও মিত্রেকে জানান, গত বছর থেকেই হোর্হে মেসি বিভিন্ন স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হওয়ায় মেসিও মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে হোর্হে মেসি বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার হৃদযন্ত্র ও স্নায়ুবিষয়ক বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়েছিল। তবে মেসি পরিবার এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
শুধু বাবা হিসেবেই নয়, হোর্হে মেসি দীর্ঘদিন ধরে ছেলের ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তিনি এখনও মেসির প্রধান এজেন্ট ও ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছেন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব