স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেছেন, আমার বাবা একজন কৃষক ছিলেন। এই সমাজে ডাক্তারের ছেলে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার এবং কৃষকের ছেলে কৃষক হবে-এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কৃষকের ছেলে এমপি হবে, তা স্বপ্নেও ভাবিনি।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আমি সরকারের কোনো উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের কমিশন নিই না, কাউকে নিতেও দেব না। আমি শতভাগ কাজের মান নিশ্চিত করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী আমাকে মানুষের কল্যাণে কাজ করার দায়িত্ব দিয়েছেন।
নিরাপদ কৃষিপণ্য উৎপাদন এবং সবজি চাষে প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কৃষকদের বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনে দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যে এ কৃষি পার্টনার কংগ্রেসের আয়োজন করা হয়। সাধারণ কৃষকদের দোরগোড়ায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়াই ছিল এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
কংগ্রেসের অংশ হিসেবে ‘পার্টনার অ্যাক্টিভিটি অ্যান্ড ভিশন ডিসপ্লে’ এবং ‘প্ল্যান্ট ডক্টরস ক্লিনিক’ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিরাপদ খাদ্যব্যবস্থা, গ্যাপ (গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেস বা উত্তম কৃষি চর্চা) এবং রপ্তানিমুখী কৃষি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এ ছাড়া স্মার্ট কৃষির অংশ হিসেবে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলের মাধ্যমে ফলনের পূর্বাভাস এবং রোবোটিক হার্ভেস্টিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়। এসব প্রযুক্তি কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিক আহাম্মদ খান এবং উপপরিচালক এনামুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জুবায়রা বেগম সাথী।
এ সময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কৃষি বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে এডিপির উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় আটটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সাবমারসিবল পাম্প বিতরণ করেন এমপি ওয়াহাব আকন্দ। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-অষ্টধর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, বোররচর পূর্ব বনপাড়া দারুস সুন্নাহ নূরানী হাফিজিয়া মাদরাসা, পরাণগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, অম্বিকাগঞ্জ কলেজ, সিরতা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, মহজমপুর হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা, শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় এবং ঘাগড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়।
পরে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের চারটি ক্ষুদ্র মৎস্য চাষ প্রদর্শনী প্রকল্পের চাষিদের মধ্যে গাছের চারা ও মৎস্য খাদ্য বিতরণ করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব