বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাট থেকে খুলনায় ১১ দলীয় সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার পথে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২০ জুন) দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের পারকুরশাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন— চিতলমারী উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি ইস্রাফিল মোল্লা, কর্মী সাইফুল কাজী, ফেরদৌস শেখ, বাদশা চৌধুরী, সামাদ মোল্লা এবং ইজিবাইকচালক শহীদ শেখ। গুরুতর আহত সাইফুল কাজী ও ফেরদৌস শেখকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহত ইস্রাফিল মোল্লার অভিযোগ, শিবপুর এলাকা থেকে ১০টি ইজিবাইকে করে নেতাকর্মীরা খুলনায় অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় সমাবেশে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। পারকুরশাইল এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে করে আসা ২০ থেকে ২২ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা সমাবেশে যেতে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি এলোপাতাড়ি মারধর করে বলে তিনি দাবি করেন।
জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চিতলমারী উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কামরুল ইসলাম এ ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত হামলা বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, সমাবেশে অংশগ্রহণ ঠেকাতেই একদল সন্ত্রাসী তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাদের বিচারের দাবি জানানো হবে।
তবে বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুল আরেফিন বলেন, হামলার বিষয়টি তার জানা নেই। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
এদিকে খুলনায় অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বাগেরহাটের হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষের নাম উল্লেখ করা হয়নি। অভিযোগ না পাওয়ায় পুলিশও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেনি।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি