স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েজ অ্যান্ড মিনস বা ওভারড্রাফট সুবিধা থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ অনুমোদিত সীমার মধ্যে রাখতে বিশেষ নিলামের মাধ্যমে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এ লক্ষ্যে নিয়মিত ট্রেজারি বিল ও বন্ড নিলামের পাশাপাশি বিশেষ নিলামের (স্পেশাল অকশন) আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এ জন্য ৩ মাস মেয়াদি একটি ট্রেজারি বিলের বিপরীতে ৫ হাজার কোটি টাকা এবং ১৪ দিন মেয়াদি আরেকটি ট্রেজারি বিলের বিপরীতে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া স্বল্পমেয়াদি ঋণ পরিশোধ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি ঋণ ও আর্থিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ থেকে ট্রেজারি বিলের বিশেষ নিলাম সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ইতোমধ্যে সম্মতি দিয়েছেন। এখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে অর্থ বিভাগ।
সূত্র আরও জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। তবে ট্রেজারি বিল, বন্ড ও সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার ২৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বিশেষ নিলাম কার্যকর হলে চলতি অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।
অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ জুন পর্যন্ত বাজেট ঘাটতি মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৩৬ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। অথচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েজ অ্যান্ড মিনস ও ওভারড্রাফট সুবিধার নির্ধারিত সীমা ২৪ হাজার কোটি টাকা। জুন মাসে সাধারণত বাজেট বাস্তবায়নের গতি বাড়ায় সরকারি ব্যয়ও অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশি থাকে। ফলে বাজার থেকে অতিরিক্ত ঋণ সংগ্রহ না করা হলে অর্থবছর শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়ে যেতে পারে, যা অনুমোদিত সীমার অনেক ঊর্ধ্বে।
অনুমোদিত নিলাম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, জুন মাসের অবশিষ্ট সময়ে ২ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকার ট্রেজারি বিল ও বন্ডের নিট ইস্যুর সুযোগ রয়েছে। এছাড়া ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার দীর্ঘমেয়াদি সুকুক এবং ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার স্বল্পমেয়াদি সুকুক ইস্যুর প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। পাশাপাশি জুন মাসে বাজেট সহায়তা হিসেবে আরও ২১ হাজার কোটি টাকা ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তারপরও অর্থবছর শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ অনুমোদিত সীমার বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় বিকল্প অর্থায়ন হিসেবে বিশেষ নিলামের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর চাপ কমানো এবং ঋণের পরিমাণ নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখার আশা করছে সরকার।
এ লক্ষ্যে ১৮ জুন অথবা সুবিধাজনক সময়ে ৩ মাস মেয়াদি ৫ হাজার কোটি টাকার একটি ট্রেজারি বিল এবং ২৫ জুন অথবা সুবিধাজনক সময়ে ১৪ দিন মেয়াদি আরও ৫ হাজার কোটি টাকার ট্রেজারি বিল বিশেষ নিলামের মাধ্যমে ইস্যুর প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অর্থবছর শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ অনুমোদিত সীমার মধ্যেই রাখা সম্ভব হবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি