| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মেয়েকে স্কুলে নেওয়ার পথে প্রাণ গেল বাবারও, মেয়েরও

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ২৪, ২০২৫ ইং | ১১:৪৮:২৮:পূর্বাহ্ন  |  ১৬৬২৭৩৭ বার পঠিত
মেয়েকে স্কুলে নেওয়ার পথে প্রাণ গেল বাবারও, মেয়েরও
ছবির ক্যাপশন: মেয়েকে স্কুলে নেওয়ার পথে প্রাণ গেল বাবারও, মেয়েরও

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : সকালটা ছিল প্রতিদিনের মতোই। বাবা নিজ হাতে চালানো থ্রি হুইলারে করে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন আদরের একমাত্র মেয়েকে। কিন্তু গন্তব্যে আর পৌঁছানো হয়নি, পথেই থেমে যায় জীবনযাত্রা। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী দ্রুতগামী ভিআইপি কোচ পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দিলে দু’জনই ছিটকে পড়েন পাশের পুকুরে। মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই বাবার মৃত্যু হয়, গুরুতর আহত মেয়ে রুবিও মারা যায় হাসপাতালে নেওয়ার আগেই।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে আটটার দিকে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভূল্লি থানার পোস্ট অফিস মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন দেবীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম ও তাঁর মেয়ে রুবি আতুল আক্তার। রুবি বোদা গার্লস স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনের মতোই সকালে মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিতে থ্রি হুইলার চালিয়ে বের হন আশরাফুল। ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়কের পোস্ট অফিস মোড়ে পৌঁছালে পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি কোচ তাদের বাহনটিকে ধাক্কা দেয়। থ্রি হুইলারটি উল্টে পাশের পুকুরে পড়ে যায়।

ভূল্লি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদ বলেন, দুর্ঘটনার সময় কোচটি চালাচ্ছিলেন হেল্পার। চালক স্থানীয় হওয়ায় কিছুদূর আসার পর হেল্পারকে গাড়ি তুলে দেন। তিনি নিজেও আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

আহত রুবিকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. রকিবুল আলম চয়ন বলেন, রুবিকে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। বাবাও ঘটনাস্থলেই মারা যান।

আশরাফুল ইসলামের পরিবার জানায়, তিনি এক সময় একটি মাদ্রাসায় খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করতেন। কিন্তু আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে শুরু করেন থ্রি হুইলার চালানো। তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে রুবিই ছিল তার চোখের মণি, আদরের ধন।

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, আশরাফুল ভাই ছিলেন একজন শান্ত-ভদ্র মানুষ। সীমাহীন কষ্টের মধ্যেও মেয়েকে পড়ালেখা করাচ্ছিলেন। সেই মেয়ে আর তাঁর স্বপ্ন-দু’জনই চলে গেল একসঙ্গে।

আরেক প্রতিবেশী জয়নাল আবেদীন বলেন, রুবি ছিল অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী। বাবা-মেয়ের একসঙ্গে এমন করুণ বিদায়ে পুরো গ্রামে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ভূল্লি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার বলেন, নিহতদের পরিবারের আবেদনে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।



রিপোর্টার্স২৪/আরএইচ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪