| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের রাতে রোনালদোর লজ্জার রেকর্ড

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ০৭, ২০২৬ ইং | ০৯:২২:৩০:পূর্বাহ্ন  |  ৫৪৪ বার পঠিত
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের রাতে রোনালদোর লজ্জার রেকর্ড

স্পোর্টস ডেস্ক: স্পেনের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। আর সেই বিদায়ের রাতেই অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ডে নাম উঠল পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিশিয়ানো রোনালদোর। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ হারার তালিকায় এখন যৌথভাবে শীর্ষে পর্তুগিজ মহাতারকা।

ডালাসে শেষ ষোলোর ম্যাচে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারে পর্তুগাল। যোগ করা সময়ে মিকেল মেরিনোর গোলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়। তাতে শেষ হয়ে যায় পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযান, শেষ হয়ে যায় রোনালদোর বিশ্বকাপ-স্বপ্নও।

এই হারে বিশ্বকাপে রোনালদোর মোট পরাজয় দাঁড়াল ৮টি। অপ্টার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মেক্সিকোর আন্তোনিও কারবাহাল ও দক্ষিণ কোরিয়ার হং মিউং-বোর সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ হারার রেকর্ডে এখন রোনালদোর নামও আছে।

৪১ বছর বয়সী রোনালদোর এটি ছিল ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। ২০০৬ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেছিলেন তিনি। এরপর ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬, প্রতিটি আসরেই পর্তুগালের সবচেয়ে বড় মুখ ছিলেন। দীর্ঘ এই পথচলায় তিনি গড়েছেন বহু রেকর্ড, তবে শেষ রাতের হিসাবটি হলো বেদনাদায়ক।

এবারের আসরে পাঁচ ম্যাচে তিন গোল করেছেন রোনালদো। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২-এ পেনাল্টি থেকে গোল করে প্রথমবার বিশ্বকাপ নকআউটে গোলও পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পর্তুগালকে শেষ আটে তুলতে পারেননি। স্পেনের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে ছিলেন মাঠে, চেষ্টা ছিল, কিন্তু ম্যাচের নিয়তি বদলানোর মতো মুহূর্ত তৈরি করতে পারেননি।

বিশ্বকাপে রোনালদোর সামগ্রিক হিসাব এখন ২৭ ম্যাচ, ১১ জয়, ৮ ড্র, ৮ হার এবং ১১ গোল। ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার বিরল কীর্তিও আছে তার। কিন্তু সংখ্যার এই বিশালতার ভেতরেই থেকে গেল সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা, বিশ্বকাপ ট্রফি।

কারবাহাল ছিলেন বিশ্বকাপ ইতিহাসে পাঁচ আসরে খেলা প্রথম ফুটবলারদের একজন। ১৯৫০ থেকে ১৯৬৬ পর্যন্ত মেক্সিকোর হয়ে পাঁচটি বিশ্বকাপে খেলেছেন এই গোলরক্ষক। ১১ ম্যাচে তার হার ছিল ৮টি। দক্ষিণ কোরিয়ার হং মিউং-বো খেলেছেন ১৯৯০, ১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২ বিশ্বকাপে। ১৬ ম্যাচে তারও হার ৮টি।

রোনালদোর ক্ষেত্রে রেকর্ডটি আরও আবেগী, কারণ ২০২৬ আসরই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। ম্যাচের আগেই তিনি জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপে এটাই তার শেষ পথচলা। তাই স্পেনের কাছে হার শুধু পর্তুগালের বিদায় নয়, রোনালদোর দীর্ঘ বিশ্বকাপ অধ্যায়েরও শেষ পৃষ্ঠা।

ইউরো ২০১৬ ও নেশনস লিগ জয়ের গৌরব আছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ফুটবলে গোল, ম্যাচ, নেতৃত্ব, দীর্ঘায়ু, সবকিছুতেই রোনালদো এক বিরল অধ্যায়। কিন্তু বিশ্বকাপে তাঁর সেরা সাফল্য থেকে গেল ২০০৬ সালের সেমিফাইনাল। সেই আসরে তরুণ রোনালদোর পর্তুগাল শেষ চারে উঠেছিল, কিন্তু এরপর আর কখনো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যেতে পারেনি তারা।

স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে পর্তুগাল দীর্ঘ সময় টিকে ছিল, কিন্তু আক্রমণে ধার আনতে পারেনি। দিয়োগো কস্তা কয়েকবার দলকে বাঁচিয়েছেন, নুনো মেন্দেস বিপদ তৈরি করেছিলেন, রোনালদোও জায়গা খুঁজেছেন। কিন্তু যোগ করা সময়ে মেরিনোর গোল পর্তুগালের সব হিসাব ভেঙে দেয়।

শেষ বাঁশির পর তাই রোনালদোর মুখে ছিল গভীর হতাশা। এত বছর ধরে যে বিশ্বকাপ ট্রফির পেছনে ছুটেছেন, সেটি অধরাই থেকে গেল। আর বিদায়ের রাতেই তাঁর নামের পাশে যুক্ত হলো এমন এক রেকর্ড, যা কোনো মহাতারকাই চাইবেন না।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪